শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১২

পদত্যাগী দেশপ্রেম, আস্থাত্যাগী দেশপ্রেমিক হতে বাধ্য করে!!!



ভালোবাসা এমন এক অনুভুতি, যার কোন সংজ্ঞা হয় না। তাইতো প্রেমিকার চোখের ভেতর নিরন্তর খুঁজে ফেরা ভালোবাসার কুলহী্নতায় প্রেমিক বলে- “সখি, ভালবাসা কারে কয়?

আমি ভাবছিলাম, মানব-মানবীর অনুভুতি কেন্দ্রিক এ মিলিয়ন ডলার প্রশ্নটি যখন হৃদয় সংযোগ ছাপিয়ে ভূখণ্ডে গিয়ে পৌঁছে তখন প্রশ্নটি পদ্মা সেতুর প্রস্তাবিত বাজেট ২২ হাজার কোটি টাকার প্রশ্নে পরিণত হয়!
“সখি, দেশপ্রেম কারে কয়?

তবে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর ঋণ চুক্তি বাতিলের পর নিজেদের অর্থায়নে এমন দুই-চারটি পদ্মা সাঁকো বানানোর মতোই ২২ হাজর কোটি টাকার এ প্রশ্নের সহজবোধ্য উত্তর দিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! কোন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানকে দেয়া ISO 9000 সনদের মতোই তিনি আবুল হোসেন কে দিয়েছেন দেশপ্রেমের ডিজিটাল 2021 সনদ! বলেছেন- আবুল দেশপ্রেমিক। কারন তিনি পদত্যাগ করেছেন!

দেশপ্রেম নিয়ে ২২ হাজার কোটি টাকার প্রশ্নের এমন সরল উত্তম উত্তরের পর যে সম্পূরক প্রশ্নটি আসে- তবে কি পদত্যাগের জন্য এক প্রকার মহাযুদ্ধ করা সোহেল তাজও শেখ হাসিনার চোখে উত্তম দেশপ্রেমিক? নাকি নন?
এ প্রশ্নের উত্তরটি সম্ভবত আবুলের হাসির মতো প্রাণোচ্ছল নয় বরং সাহারা খাতুনের হাসির মতোই জটিলতর! তাই এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যেতে পারে ধর্মে… ধর্ম বলেছে- দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। ঈমান অর্থ বিশ্বাস। অর্থ্যাৎ দেশপ্রেমের সাথে বিশ্বাসেরও সম্পর্ক রয়েছে।
তাই বিশ্বাস আর বিশ্বাসীর পরিক্ষায় একজন আবুল হোসেন কিম্বা একজন সুরঞ্জিতসেন গুপ্ত গোল্ডেন এ+ পেলেও সোহেল তাজ যে ঈমানই পরীক্ষায় ফেল করেছেন তা বলাই বাহুল্য।

ছোটবেলায় পড়া ‘দেশপ্রেম রচনার একটি লাইন এখানে প্রাসংগিক ভাবেই উল্লেখ করা যেতে পারে- “আমাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালনই দেশপ্রেম”
 যেহেতু আমাদের সমাজের এমপি-মন্ত্রীরা সমাজের চোখে পুরুষ মানুষের মতোই চরিত্রহীন! পুরুষ মানুষের ক্যারেকটার একটু ঢিলা হবে, তারা আমোদ ফুর্তি করবে, একটু আটটু গলা ভেজাবে, এদিক ওদিক যাবে, এতে দোষের কিছু নাই! তেমনি আমাদের এমপি-মন্ত্রীরাও দেশের টাকা নিজের মনে করে একটু নয়-ছয় করবে, ঘুষ নয় বরং উপঢৌকন দাবি করবে, বিড়াল ধরতে গিয়ে নিজেই কাল বিড়াল হবে, এটাই স্বাভাবিক, এটা দোষের কিছু না! এমন নয়-ছয় কাজ যথাযথ ভাবে পালন করাও তো দেশপ্রেম!

তবে তাদের দেশপ্রেম প্রশ্নবিদ্ধ! তারা যদি এমন নয়-ছয় যথাযথভাবেই করতো তবে কালো বিড়াল পিলখানায় ধরা পরত না! বিশ্বব্যাংক ও অভিযোগ না করে দুদকের মতোই বলতো- এখানে কোনো দূর্নীতি খুজেঁ পাওয়া যায়নি! তারপরও প্রশ্নবিদ্ধ দেশপ্রেম প্রশ্নাতীত হয়ে যায়- কারন তারা পদত্যাগ করেছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়- পদত্যাগই দেশপ্রেম!

আমার অবশ্য কোনো পদ নাই, তাই পদত্যাগের উপায় নাই, দেশপ্রেমিক হবার সুযোগও নাই! এ দেশের সাধারন মানুষেরও নাই! তবে পদ আর পদত্যাগ না থাকলেও এ দেশের সাধারন মানুষেরা দেশপ্রেমিক। কারন দেশপ্রেমের জন্য প্রয়োজন ত্যাগ -পদত্যাগ, স্বার্থত্যাগ, আত্মত্যাগ, আস্থা ত্যাগ……………………………।

এক সময় ভাবতাম, এ দেশের মানুষেরা বড় অস্থির, আস্থাহীন। এ দেশের গণতন্ত্র মানেই পাঁচ বছরের পালা বদল! আঙ্গুলের অমোচনীয় কালী মেখে, ন্যাড়া হয়ে আলাদা আলাদা বেল গাছ তলায় বারবার যাওয়া!
কিন্তু এখন ভাবি, ন্যাড়াদের বারবার বেল গাছ তলায় বারবার না গিয়েই বা উপায় কি? নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে যে ক্ষমতার কার্যক্রম মেলে না! তাইতো বাধ্য হয়ে, স্বতঃস্ফূর্তভাবেই পালা বদলের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় আস্থাত্যাগের!
পদত্যাগ করা আবুল হোসেন দেশপ্রেমিক কিনা জানিনা তবে বারবার আস্থাত্যাগ করা জনগণই বাস্তবিক দেশপ্রেমিক। আবুল হোসেন অন্তত একটা কারনে ধন্যবাদ পাবে!- আবুলদের দেশপ্রেম, জনগনকে আস্থাত্যাগী দেশপ্রেমিক হতে বাধ্য করে!!!

মঙ্গলবার, ২৬ জুন, ২০১২

৪৮ ঘন্টার ব্যর্থতা, অন্তত ৪৮ সমস্যার জন্ম দেবে!!!

সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের পর সরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘন্টার আশাবাদ, আজো শেষ হয় নি! ঘড়ির কাঁটা সেকেন্ড, মিনিট মেপে মেপে ছোট্ট মেঘের চোখের পানি শুকায়, কিন্তু সে কাঁটা ঘন্টায় পৌছে না! অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে ঘুমিয়ে পড়ে মেঘ, ঘুমিয়ে পড়ে ঘড়িটিও! কালের গহব্বরে বিলিন হয় ৪৮ ঘন্টা!
মেঘ এতোটাই ছোট, ও নিশ্চই ৪৮ ঘন্টা বোঝে না! ও বোঝেনা, আমাদের বেডরুম পাহারা দেওয়া কোন সরকারের কাজ নয়! ও বোঝে না পরকীয়া কি? বাসায় মদের আড্ডা কি? ওর এটা বোঝার কথাও নয়।
তবে মেঘের এক জগৎ আছে, শিশু মনের স্বপ্নজগৎ- যেখানে তার বেডরুম নিরাপদ। পরকীয়া, মদের আসরের মতো বিশ্রী আর ৪৮ ঘন্টার নিস্ফল আশাবাদ, যে জগৎকে এখনো স্পর্শ করেনি.........
মেঘের রুপকথাময় স্বপ্ন জগতে আছে- হাতিশালায় হাতি, ঘোড়াশালায় ঘোড়া।  ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমী আছে। আছে রাক্ষস-খোক্ষসও........যারা যাদুর প্রভাবে রাজকন্যাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে, সোনার কাঠি আর রুপোর কাঠির ছোয়ায় যে অশুভ প্রভাব কেটে যাবে। রাজকন্যার ঘুম ভাঙ্গবে, রাজ্য আনন্দে ঝলমল করবে......
মেঘ নিশ্চই, নির্মম বাস্তবতার মাঝে তার স্বপ্নরাজ্য খুঁজে ফেরে! মিডিয়া রাক্ষস আর স্বার্থানেষী খোক্ষস যে তার মা-বাবাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে....সোনার কাঠি-রুপোর কাঠির ছোঁয়ায় যে তাদের ঘুম ভাঙ্গবে!
কিন্তু সে ঘুম আর কখনোই ভাঙ্গবে না। বাস্তব জগতের রাক্ষস খোক্ষসেরা যে অনেক শক্তিশালী! শিশু মনের স্বপ্নরাজ্য তারা নিয়ন্ত্রন করে! নিরাপদ বেডরুমকে নিরাপত্তাহীন করে! নিয়ন্ত্রন করে ঘড়ির কাঁটা.....৪৮ ঘন্টা!!! এমনকি তারা প্রধানমন্ত্রীকেও তাচ্ছিলের সুরে বাচাল বলতে পারে!
তারা এতোটাই শক্তিশালী! তাদের প্রান ভোমরা এতোটাই সুরক্ষিত! যার খবর জানেনা কোন ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমীও!
তবে মেঘের স্বপ্নরাজ্যের এক ব্যঙ্গমা বাসা বেঁধেছে আমার মনের ডালে! অনিরাপদ নীড়ে যে হারিয়েছে তার ব্যঙ্গমীকে! এ নিয়ে কোন ক্ষোভ নেই- নীড় পাহাড়া দেয়াতো কোন সরকারের কাজ না! সে ৪৮ ঘন্টার প্রতিক্ষায় থাকে না, রাক্ষস-খোক্ষসের প্রানভোমরার খবরও তার অজানা! সে সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে সাংবাদিক ঐকে খুশি হয়, মাহফুজুর রহমানের পরকীয়া তত্বে, ব্যঙ্গমীর শোকে ক্ষিপ্ত হয়......বিচারের ভবিষৎ নিয়ে হতাশ হয়........

আজ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মাহফুজের বাচাল তত্বের ভিডিও দেখে ব্যঙ্গমাকে কহিলাম- এটিএনের চেয়ারম্যান তো এবার মাইনক্যা চিপায় পড়ছে!
ব্যঙ্গমা কহিলো- আরে ধুর...আম পাবলিকের মতো কথা কইয়ো না! চিপায় পড়ছে তো সরকার!
আমি কহিলাম- কিরুপ?
ব্যঙ্গমা কহিলো- না ধরিলে, বিরোধী পক্ষ সাগর-রুনি ইমোশন লইয়া রাজনীতি করিবে! আর ধরিলে, তারাই গনমাধ্যমের স্বাধিনতা গেল বলিয়া মায়া কান্না কাঁদিবে!
আমি কহিলাম- খাইছে....তাহা হইলে এখন কি হইবে?
 ব্যঙ্গমা কহিলো- কাদম্বিনি মরিয়া প্রমান করিয়াছিলো তিনি মরেন নাই! হাসিনা আপাও এখন চুপ থাকিয়া প্রমান করিবে তিনি বাচাল নহে!!!
আমি কহিলাম- তাহা হয়তো হইবে না.....সুরন্জিত কহিয়াছিলেন- বাঘে ধরিলে ছাড়ে, হাসিনা ধরিলে ছাড়ে না!!! মাহফুজ এইবার ছাড়া পাইবে না!!!
ব্যঙ্গমা কহিলো- তাহাতেও বিপদ! সবাই কহিবে- খুনের জন্য নহে বাচাল বলিবার জন্যই কট খাইলো মাহফুজ!
আমি কহিলাম- ভারী আপদ....এখন উপায়???
ব্যঙ্গমা কহিলো- উপায় নাই গোলাম হোসেন! সরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘন্টা এখনো শেষ হয় নাই! ৪৮ ঘন্টার ব্যর্থতা এমন আরো ৪৮ সমস্যার জন্ম দিবে, সাথে বাচাল উপাধি ফাও......

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১২

আমার আব্বু, আমার হিরো।

আব্বুকে আমি কখনো লিখিনি, জানিনা আব্বুকে কি করে লিখতে হয়! কি বলে সম্মোধন করতে হয়! আর বিশেষনই বা কি?
প্রিয় আব্বু.....কিম্বা সুপ্রিয় আব্বু.....
বিশেষনেই কেটে দিতে হলো অসংখ্যবার! কারন আব্বুর বিশেষনের প্রয়োজন নেই! আব্বু তো আব্বুই। এ উদ্দাম গতিময়তার যুগে তিনি শুধু লালন কর্তা, পালনকর্তা এবং প্রয়োজনের যোগানদাতাই নয় বরং আরো বড় কিছু......
আমার আব্বু, আমার হিরো। আমার অনুপ্রেরনার আশ্রয়স্থল। আমার আব্বু, আমার পৃথিবী।
মনে পড়ে ছোটবেলায় একবার আব্বুর ঘড়ি হারিয়ে ফেলেছিলাম। আব্বু আমাকে কিছুই বলেননি।
তারপর অনেকদিন তার হাতটা ঘড়িবিহীন ছিলো, হয়তো আর্থিক সীমাবদ্ধতায় কিনতে পারেননি! আব্বুর ঘড়ি বিহীন হাতটি দেখে আমার এতো কষ্ট হতো, তারপর ১৬-১৭ বছর কেটে গেছে, আমি সে কষ্ট বুকে চেপে আজো কোন ঘড়ি হাতে দেইনি।

ও...আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা যখন আসলোই, তখন বলেই ফেলি- আমাদের পরিবারটা মধ্যবিত্ত। নুন আনতে হয়তো আমাদের পান্তা ফুরায় না! কিন্তু আব্বু এতো বিলাসী, নুন পান্তার জন্য তিনি ব্যবস্থা করেন ইলিশ! তখন হয়তো মধ্যবিত্ত সংসারে নুন পান্তা ইলিশে, থাকেনা পেঁয়াজ মরিচ! আব্বু সেটাও ব্যবস্থা করেন, কিন্তু কিভাবে তা আমি জানি না, আব্বু কখনো জানতেও দেননি।

এমন একটি মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানের জন্য উচ্চ মাধ্যমিকে স্থানীয়(পাবনা) একটি কলেজে পড়াই ছিলো সংগত। কিন্তু আব্বু ছেলের আরো সুন্দর ভবিষৎ নিশ্চিত করতে আমাকে পাঠালেন ঢাকায়, ভর্তি করলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা কলেজটিতে(নটর ডেম)।

মাসের শুরুতে আমি চাইবার আগেই তিনি ফোন করে জানতে চাইতেন- কত টাকা লাগবে?
টাকা হাতে পাবার পর সব সময় দেখতাম- যা দেবার কথা দিয়েছেন অনেক বেশী। এ নিয়ে ফোনে আব্বুর সে কি মনোমুগ্ধকর অযুহাত-
বই মেলা চলছে, মেলায় যেয়ো ১০০০ টাকা বেশী দিলাম.....
পেপারে দেখলাম, বানিজ্য মেলায় ভালো ব্লেজার পাওয়া যাচ্ছে, ১৫০০ টাকা আলাদা পাঠালাম...কিনে নিয়ো.....
এ মাসে না তোমার জন্মদিন বন্ধুদের সাথে বাহিরে খেয়ো....ইত্যাদি.....ইত্যাদি

আব্বু কাউকে বুঝতে দেননি- আমার বিশাল খরচ, ছোটভাইয়ের লেখাপড়া, সংসার খরচ, নিজের হাত খরচ, সব মিলিয়ে তার আর্থিক অবস্থা দিনকে দিন খারাপ হতে থাকলো। আব্বু ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ। কারো কাছে হাত পাতা কিম্বা ধার দেনা করার মানুষ তিনি নন। তাই প্রয়োজনের তাগিদে আমাদের বসত বাড়ির বাহিরে একমাত্র জমিটি তিনি বিক্রি করে দিলেন। আমাদের আত্বীয় স্বজনেরা তাকে বুঝিয়েছিলো- এক ছেলের পেছনেই সব খরচ করছো? তোমার তো আরেক ছেলে আছে, তার ভবিষৎ এর কথাও ভাবো....
আব্বু সেদিন বলেছিলো- ও যদি মানুষ হয়। আমার আরেক ছেলে আর আমি দুজনেই ওর ছেলেতে পরিনত হবো। তখন এই দুই ছেলেকে ওই দেখবে........
এ কথা যখন আমি শুনেছিলাম, আমার চোখে পানি চলে এসেছিলো। একজন বাবা তার ছেলেকে কতটুকু ভালোবাসতে পারে, বিশ্বাস করতে পারে.......

অথচ আমার যখন এইচএসসিতে রেজাল্ট খারাপ হলো! আব্বু কষ্ট পেলেও কি আশ্চর্যজনক ভাবেই না নিজের কষ্ট গোপন করলেন! আমাকে বললেন- এমন হতেই পারে, ভালো কোথাও ভর্তির চেষ্টা করো, এ রেজাল্টকে জীবনে প্রভাব পড়তে দিয়ো না.....

ছোটবেলায় যখন বড়শি দিয়ে মাছ ধরতাম। ঘন্টার পর ঘন্টা ফাতনাতে মাছের টোকা ছাড়াই অপেক্ষা করতাম, পরেরদিন আবার বড়শি ফেলতাম। ফিডব্যাক না পেলেও প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতাম। ভাবতাম- মাছ ধরাই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র কাজ যেখানে ফিডব্যাক না পেলেও প্রচেষ্টা চালানো যায়.......
কিন্তু আব্বুকে দেখে বুঝেছি, পিতা হলেন এমন একজন যিনি সন্তানের কাছে আশানুরুপ ফিডব্যাক না পেলেও সন্তানের সুখের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।

আজ বাবা দিবসে, সকালে আব্বুকে ফোন করেছিলাম- কিন্তু বলতে পারিনি আব্বু, আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি। তুমিই আমার হিরো, তুমিই আমার পৃথিবী।
তাই লিখতে বসলাম- আব্বুকে আমি কখনো লিখিনি, জানিনা আব্বুকে কি করে লিখতে হয়.......আমি লিখতে পারছিলাম না। অবশেষে কাগজটি ছিঁড়ে শত টুকরা করে ফেললাম!!!
পরক্ষনে ভাবছিলাম, হায়...আব্বু যদি জানতো, তাহলে হয়তো শত টুকরা একে মিলাতো। একটি শব্দই শুধু বোঝা যেত- ভালো থেকো আব্বু।।।
আব্বু সে সময় নিশ্চই হেসে বলতেন- আব্বুকে কি লেখার কিম্বা বলার প্রয়োজন আছে? আব্বু তো জানেই তার ছেলে তাকে কত ভালোবাসে......