শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

চাটুকারীতা যখন বিপদজনক হয়ে ওঠে!

অবশেষে মুক্ত হলেন পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিক।
এর মাধ্যমে প্রায় ২ দিনের উৎকন্ঠার অবসান ঘটিয়ে এক স্ত্রী ফিরে পেয়েছে তার স্বামীকে, মা ফিরে পেয়েছে তার সন্তানকে, সন্তানেরা ফিরে পেয়েছে তার বাবাকে।
এবং অবসান হয়েছে দিনে-দুপুরে সিনেমাটিক অপহরনের, রাত-দুপুরে নাটকিয় মুক্তিতে।

যে মুক্তিটি(পড়তে হবে উদ্ধার) ছিলো নিতান্তই আশাবাদ! যাকিনা অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই অক্ষত অবস্থায় এবং দ্রুততার সাথে মুক্তিতে গড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো- সেটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে-

বিভিন্ন গনমাধ্যমের নিউজ এবং রিজওয়ানা হাসানের বিবৃতি পড়ে যে দুটি পয়েন্ট আমার কাছে উল্লেখযোগ্য মনে হয়েছে-
এক. প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সদিচ্ছা বা সরাসরি তদারকি।
এবং দুই. গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও রাষ্ট্রের প্রচণ্ড চাপ।
অভিনন্দন, প্রধানমন্ত্রীকে। অভিনন্দন, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। এক স্বজন হারাতে বসা পরিবারের চোখের পানি মুছে দিতে তাদের এ ভূমিকা সত্যি অতুলনীয়।

আমি পড়ছিলাম- ১৮ই এপ্রিলের দৈনিক প্রথম আলোয় আইনও সালিস কেন্দ্রের গত ৪ বছরের অপহরনের তথ্য সম্বলিত নিউজ। "গত ৪ বছরে অপহৃত হয়েছে ২৬৮ জন, ফিরে এসেছে ২৪ জন, লাস উদ্ধার হয়েছে ৪৩ টি আর এখনো নিঁখোজ ১৮৭ জন"!!
এখন প্রশ্ন হলো- ফিরে আসা ২৪ জন বাদ দিলে অবশিষ্ঠ ২৪৪ জনের ক্ষেত্রে কি প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সদিচ্ছা বা সরাসরি তদারকি ছিলো না? ছিলো না গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও রাষ্ট্রের প্রচণ্ড চাপ?
এ ২৪৪ পরিবারের চোখের পানির দায় কি এড়াতে পারেন আজকের কৃতীত্বের দাবীদার, অভিনন্দন প্রাপ্তরা?
অবশ্য, ইস্যুর নিচে চাপা পড়া ইস্যুর মতোই, এক আবু বকরের মুক্তিতেই চাপা পড়ে যাবে ২৪৪ গুম! যেমন আবু বকর সিদ্দিকের অপহরনে চাপা পড়েছে- এয়ারপোর্টে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এর অপারেশনের ঘটনা।
এমন ইস্যুর চাপা পড়ার আরেকটি বিশেষ দিক লক্ষ্যনীয়- যেখানে ইস্যু ভিত্তিক সমস্যা সমাধানে এক ত্রাতার ভূমিকাও থাকে। চাটুকারেরা বলে বেড়ান- ত্রাতার সদিচ্ছাতেই তো এটা সম্ভব হয়েছে। এই চামচাগিরির উদ্দেশ্য হলো সমালোচনায় বিদ্ধ প্রভুকে একজন সর্বশক্তিমান অতিকায় মানবের ভাবমূর্তি দেয়া। কিন্তু চাটুকারী এই মনোভাবের পরিণতিও কিন্তু বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে-
প্রশ্ন আসতে পারে- কিভাবে?
উত্তরঃ ইউ কে ডি!
একজন জাদরেল সরকারি কর্মকর্তা। আড্ডা ও পার্টিতে তিনি সাধারণত চুপচাপই থাকতেন। আর কথার খই ফোটাতেন তার স্ত্রী। যে কোনো সরকারি কাজের কথা উঠলে স্ত্রীটি বলতেন- ওটা তো উনিই করিয়ে দিলেন। সেই থেকে ওই স্ত্রীর নাম হয়ে যায় উনিই করিয়ে দিলেন সংক্ষেপে ইউ কে ডি। কিন্তু গোলমাল হয়ে গেল একদিন এক পার্টিতে। ভদ্রমহিলার খেয়াল ছিল না যে ওই পার্টির হোস্ট বহুদিন পর তার স্ত্রীর প্রথম সন্তান প্রসবে খুশি হয়ে সবাইকে সেদিন ডেকেছিলেন। বেখেয়ালি স্বামীভক্ত সেই ভদ্রমহিলা সেদিন সেই সন্তান সম্পর্কে বলে ফেললেন, ওটা তো উনিই করিয়ে দিলেন!

বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৪

ষোল আনাই মিছে

ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী যখন স্পিকার হিসাবে শপথ নিলেন। তার অল ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট রেজাল্ট দেখে, অপার বিষ্ময়ে ভেবেছিলাম- রাজনীতির এ দুর্বৃত্তায়নের সময়ে অশিক্ষিত আর অর্ধশিক্ষিত লিলিপুটদের মাঝে তিনি উচ্চ শিক্ষার এক গালিভার!
তিনি জানেন- "চাঁদটা কেন বাড়ে কমে ? জোয়ার কেন আসে ?" নদীর ধারা কেমন করে পাহাড় থেকে ভাসে?"

কিন্তু হায়! এতকিছু জানলেও তিনি জানেন না, প্রথিতযশা সাংবাদিক এবং ১৯৭৩-এ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হওয়া এবিএম মূসা, সংসদ সদস্য ছিলেন!!
সদ্য প্রয়াত সাবেক সাংসদ এবিএম মূসার জানাজা কেন সংসদ সচিবালয়ের দক্ষিণ প্লাজায় হয় নি? এ প্রশ্নের উত্তরে ড. শিরিন বলেন- "আমি জানতাম না এবিএম মূসা সংসদ সদস্য ছিলেন।"

@মাননীয় স্পিকার,
এমন 'অল ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট' দিয়া জাতি কি করিবে? শুধু মাত্র বিসিএস-এ 'দেশের প্রথম নারী স্পিকার কে? এ প্রশ্নের উত্তর ছাড়া?

(ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী'র জন্য এই মুহূর্তে আমি ডেডিকেট করছি- সুকুমার রায়ের চিরন্তন কবিতা 'ষোল আনাই মিছে')

"বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে
মাঝিরে কন, "বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে ?
চাঁদটা কেন বাড়ে কমে ? জোয়ার কেন আসে ?"
বৃদ্ধ মাঝি অবাক হয়ে ফ্যালফেলিয়ে হাসে।
বাবু বলেন, "সারা জনম মরলিরে তুই খাটি,
জ্ঞান বিনা তোর জীবনটা যে চারি আনাই মাটি।"

খানিক বাদে কহেন বাবু "বলত দেখি ভেবে
নদীর ধারা কেমনে আসে পাহাড় হতে নেবে ?
বলত কেন লবণপোরা সাগর ভরা পানি ?"
মাঝি সে কয়, "আরে মশাই অত কি আর জানি ?"
বাবু বলেন, "এই বয়সে জানিসনেও তা কি
জীবনটা তোর নেহাৎ খেলো, অষ্ট আনাই ফাঁকি ?"

আবার ভেবে কহেন বাবু "বলতো ওরে বুড়ো,
কেন এমন নীল দেখা যায় আকাশের ঐ চূড়ো ?
বলত দেখি সূর্য চাঁদে গ্রহণ লাগে কেন ?"
বৃদ্ধ বলে, "আমায় কেন লজ্জা দেছেন হেন ?"
বাবু বলেন, "বলব কি আর, বলব তোরে কি তা,--
দেখছি এখন জীবনটা তোর বারো আনাই বৃথা।"

খানিক বাদে ঝড় উঠেছে, ঢেউ উঠেছে ফুলে,
বাবু দেখেন, নৌকোখানি ডুবল বুঝি দুলে !
মাঝিরে কন, "একি আপদ ! ওরে ও ভাই মাঝি,
ডুবল নাকি নৌকো এবার ? মরব নাকি আজি ?"
মাঝি শুধায়, "সাঁতার জানো ?" --মাথা নাড়েন বাবু,
মূর্খ মাঝি বলে, "মশাই, এখন কেন কাবু ?
বাঁচলে শেষে আমার কথা হিসেব করো পিছে,
তোমার দেখি জীবন খানা ষোল আনাই মিছে।"

রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৪

বাঙলা নববর্ষে যে উৎসবটা বাঙলাদেশে হতে পারে?

প্রাচীন বাঙলা নববর্ষ উৎযাপনের আনুষ্ঠানিকতায় বিশেষায়িত উৎসব হলো- পুন্যাহ, হালখাতা এবং বৈশাখী মেলা।
আধুনিক বাঙলা নববর্ষ উৎযাপনের সবচেয়ে সুগঠিত ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ হলো- রমনার পাকুড়মূলে ছায়ানটের নববর্ষ উৎসব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বর্নাট্য মঙ্গল শোভাযাত্রা।
এ ছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলীক উদ্যোগে হয়- বলীখেলা, ঘোড়দৌড়, মোরগ লড়াই, লাঠিখেলা, যাত্রাপালা, কবিগান, গম্ভিরা, পুতুল নাচ, নাগরদোলা....

লক্ষ্যনীয়, নববর্ষ উৎযাপনের এ অনুষ্ঠানগুলো এ অঞ্চলের মানুষের মন ও মননের সাথে এবং তাদের আর্থিক ও সামাজিক বাস্তবতার সাথে সম্পর্কিত।
এ সম্পর্কটা শুধু কৃষি প্রধান দেশে সাধারন মানুষে হাতে ফসল না ওঠা পর্যন্ত টাকা না থাকা, সেজন্য বাকী খাতাতে হিসাব লেখা, নতুন বছরে হাল খাতা খোলা, খাজনা দেয়া, সারা বছরের পন্য কেনার মতো উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়!
এ সম্পর্কটা গনতন্ত্রকামী মানুষের গনতন্ত্র আকাংখা, ভোটারদের ভোটাধিকার, এবং জনগনের প্রত্যাশিত সুশাসনের সাথেও সম্পর্কিত।

তাই এ নববর্ষে বন্ধ গনতন্ত্রের নতুন খাতা বা একতরফা নির্বাচনের বিপরীতে নতুন নির্বাচন হতে পারে 'হালখাতা'। ভোট কেন্দ্রে আমন্তিত হয়ে ভোটদিতে পারা হবে পুন্যাহ। এবং উৎসবের আমেজে সর্বদলীয় নির্বাচন হতে পারে বৈশাখী মেলা।

আর তাই, অবিলম্বে সব দলের অংশগ্রহনে একটি নির্বাচনই হতে পারে এ নববর্ষে বাঙলাদেশের সেরা উৎসব।