বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৪

ষোল আনাই মিছে

ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী যখন স্পিকার হিসাবে শপথ নিলেন। তার অল ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট রেজাল্ট দেখে, অপার বিষ্ময়ে ভেবেছিলাম- রাজনীতির এ দুর্বৃত্তায়নের সময়ে অশিক্ষিত আর অর্ধশিক্ষিত লিলিপুটদের মাঝে তিনি উচ্চ শিক্ষার এক গালিভার!
তিনি জানেন- "চাঁদটা কেন বাড়ে কমে ? জোয়ার কেন আসে ?" নদীর ধারা কেমন করে পাহাড় থেকে ভাসে?"

কিন্তু হায়! এতকিছু জানলেও তিনি জানেন না, প্রথিতযশা সাংবাদিক এবং ১৯৭৩-এ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হওয়া এবিএম মূসা, সংসদ সদস্য ছিলেন!!
সদ্য প্রয়াত সাবেক সাংসদ এবিএম মূসার জানাজা কেন সংসদ সচিবালয়ের দক্ষিণ প্লাজায় হয় নি? এ প্রশ্নের উত্তরে ড. শিরিন বলেন- "আমি জানতাম না এবিএম মূসা সংসদ সদস্য ছিলেন।"

@মাননীয় স্পিকার,
এমন 'অল ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট' দিয়া জাতি কি করিবে? শুধু মাত্র বিসিএস-এ 'দেশের প্রথম নারী স্পিকার কে? এ প্রশ্নের উত্তর ছাড়া?

(ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী'র জন্য এই মুহূর্তে আমি ডেডিকেট করছি- সুকুমার রায়ের চিরন্তন কবিতা 'ষোল আনাই মিছে')

"বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে
মাঝিরে কন, "বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে ?
চাঁদটা কেন বাড়ে কমে ? জোয়ার কেন আসে ?"
বৃদ্ধ মাঝি অবাক হয়ে ফ্যালফেলিয়ে হাসে।
বাবু বলেন, "সারা জনম মরলিরে তুই খাটি,
জ্ঞান বিনা তোর জীবনটা যে চারি আনাই মাটি।"

খানিক বাদে কহেন বাবু "বলত দেখি ভেবে
নদীর ধারা কেমনে আসে পাহাড় হতে নেবে ?
বলত কেন লবণপোরা সাগর ভরা পানি ?"
মাঝি সে কয়, "আরে মশাই অত কি আর জানি ?"
বাবু বলেন, "এই বয়সে জানিসনেও তা কি
জীবনটা তোর নেহাৎ খেলো, অষ্ট আনাই ফাঁকি ?"

আবার ভেবে কহেন বাবু "বলতো ওরে বুড়ো,
কেন এমন নীল দেখা যায় আকাশের ঐ চূড়ো ?
বলত দেখি সূর্য চাঁদে গ্রহণ লাগে কেন ?"
বৃদ্ধ বলে, "আমায় কেন লজ্জা দেছেন হেন ?"
বাবু বলেন, "বলব কি আর, বলব তোরে কি তা,--
দেখছি এখন জীবনটা তোর বারো আনাই বৃথা।"

খানিক বাদে ঝড় উঠেছে, ঢেউ উঠেছে ফুলে,
বাবু দেখেন, নৌকোখানি ডুবল বুঝি দুলে !
মাঝিরে কন, "একি আপদ ! ওরে ও ভাই মাঝি,
ডুবল নাকি নৌকো এবার ? মরব নাকি আজি ?"
মাঝি শুধায়, "সাঁতার জানো ?" --মাথা নাড়েন বাবু,
মূর্খ মাঝি বলে, "মশাই, এখন কেন কাবু ?
বাঁচলে শেষে আমার কথা হিসেব করো পিছে,
তোমার দেখি জীবন খানা ষোল আনাই মিছে।"

রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৪

বাঙলা নববর্ষে যে উৎসবটা বাঙলাদেশে হতে পারে?

প্রাচীন বাঙলা নববর্ষ উৎযাপনের আনুষ্ঠানিকতায় বিশেষায়িত উৎসব হলো- পুন্যাহ, হালখাতা এবং বৈশাখী মেলা।
আধুনিক বাঙলা নববর্ষ উৎযাপনের সবচেয়ে সুগঠিত ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ হলো- রমনার পাকুড়মূলে ছায়ানটের নববর্ষ উৎসব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বর্নাট্য মঙ্গল শোভাযাত্রা।
এ ছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলীক উদ্যোগে হয়- বলীখেলা, ঘোড়দৌড়, মোরগ লড়াই, লাঠিখেলা, যাত্রাপালা, কবিগান, গম্ভিরা, পুতুল নাচ, নাগরদোলা....

লক্ষ্যনীয়, নববর্ষ উৎযাপনের এ অনুষ্ঠানগুলো এ অঞ্চলের মানুষের মন ও মননের সাথে এবং তাদের আর্থিক ও সামাজিক বাস্তবতার সাথে সম্পর্কিত।
এ সম্পর্কটা শুধু কৃষি প্রধান দেশে সাধারন মানুষে হাতে ফসল না ওঠা পর্যন্ত টাকা না থাকা, সেজন্য বাকী খাতাতে হিসাব লেখা, নতুন বছরে হাল খাতা খোলা, খাজনা দেয়া, সারা বছরের পন্য কেনার মতো উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়!
এ সম্পর্কটা গনতন্ত্রকামী মানুষের গনতন্ত্র আকাংখা, ভোটারদের ভোটাধিকার, এবং জনগনের প্রত্যাশিত সুশাসনের সাথেও সম্পর্কিত।

তাই এ নববর্ষে বন্ধ গনতন্ত্রের নতুন খাতা বা একতরফা নির্বাচনের বিপরীতে নতুন নির্বাচন হতে পারে 'হালখাতা'। ভোট কেন্দ্রে আমন্তিত হয়ে ভোটদিতে পারা হবে পুন্যাহ। এবং উৎসবের আমেজে সর্বদলীয় নির্বাচন হতে পারে বৈশাখী মেলা।

আর তাই, অবিলম্বে সব দলের অংশগ্রহনে একটি নির্বাচনই হতে পারে এ নববর্ষে বাঙলাদেশের সেরা উৎসব।

সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৪

কাইয়ে ধান খাইলরে

হুমায়ন আহম্মেদের নাটকে একটি ডায়ালগ ছিলো- "কুকুরকে কুত্তা বলিবেন না, মাইন্ড করবে"।
ডায়ালগটি খুব জনপ্রিয় হয়েছিলো। মুখে মুখে প্রচারের পাশাপাশি বেড়িয়েছিলো এর স্টিকারও...

আমি ভাবছিলাম- পশুপ্রেমী এ ডায়ালগের পাশাপাশি পাখিপ্রেমী ডায়ালগ হতে পারতো- "কাককে কাউয়া বলবেন না, মাইন্ড করবে"।
যদিও আমি জানিনা, কুকুরকে কুত্তা আর কাককে কাউয়া বলিলে তারা আদৌ মাইন্ড করে কিনা? কিংবা মাইন্ড করার মতো মাইন্ড তাদের আছে কিনা? কিংবা কুকুরকে কুত্তা না বলিয়া কুকুর আর কাককে কাউয়া না বলিয়া কাক বলিলে তারা খুশি হয় কিনা?
তবে এটা জানি, কুকুর আর কাক রূপিদের আপনি কুকুরই বলুন কিংবা কুত্তা, কাকই বলুন কিংবা কাউয়া, তারা মাইন্ড করবে।

আপনি পশু-পাখি প্রেমী হতেই পারেন। তবে পশু-পাখি রূপিদের প্রেমী হবেন কিনা সেটাই গুরুত্বপূর্ন। পশুর কামড় আর পাখির ঠোঁকড় এড়াতে চুপ থাকবেন কিনা সেটাও বিবেচ্য।
মোসাহেবরা হয়তো কাককে কোকিল বলছে! কুকুরকে বলছে বাঘ!
আপনি নিরব! মনে মনে কুকুরকে যতই শুকুর বলুন, মনে মনে শুধু মনকলাই খাওয়া হবে, পেট ভরবে না!
তবে পেট না ভরলেও, মনকলা খাওয়ার মনস্তাত্বিক এক মজা আছে নিশ্চই! আর তাইতো কিছুদিন আগে গনতন্ত্রকে নসাৎ হতে দেখা জাতি, নিজ দেশে গনতন্ত্রের প্রশ্নে নিরব থাকলেও, বৃহৎ প্রতিবেশীর বৃহৎ গনতন্ত্র উৎসবে ব্যপক আগ্রহ দেখাচ্ছে!

আমি ভাবছিলাম- জারি-সারি গানের বাংলাদেশে, সারি গান কতটা প্রাসংগিক, কতটা বাস্তবমূখি?
"ও কাইয়ে ধান খাইলরে
খেদানোর মানুষ নাই
খাওয়ার বেলায় আছে মানুষ
কামের বেলায় নাই
কাইয়ে ধান খাইলরে

ওরে ও পাড়াতে পাটা নাই পুতা নাই
মরিচ বাটে গালে
ওরা খাইলো তাড়াতাড়ি
আমরা মরি ঝালে
কাইয়ে ধান খইলরে.."

সত্যি, গত নির্বাচনে আওয়ামী কাউয়া দেশের গনতন্ত্র ধান খেয়ে ফেলেছে। যখন গনতন্ত্রের জন্য কাউয়া খেদানো দরকার, তখন গনতন্ত্রের উৎসবের আবির বৃহৎ প্রতিবেশীর গালে, আর তাতেই আমরা মরছি গনতন্ত্র প্রেমের ঝালে!

প্রিয় কান্ট্রিমেট, প্লিজ ওয়েক আপ.....
খোকা ঘুমালে পাড়া জুড়াবে ঠিকই, কিন্তু খোকার বাপে ঘুমালে দেশটা বর্গিদের দখলে চলে যাবে! তখন কাউয়ায় ধান খেয়েছে বলে খাজনার টাকা দিতে অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তি রসুনের ওপর...

দেশের জন্য তা হবে এক অনন্ত আক্ষেপ!!