বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৩

দুটি কবিতা

আসছে যে জলপাই!

গনতন্ত্র ভ্রমরের, অস্থির ছোটাছুটিতে
ঘটছে ফুলে পরাগায়ন
আসছে শীতে হয়তো হবে-
জলপাই'য়ের বাম্পার ফলন!
বাগান থেকে, আড়ত থেকে
ব্যারাক থেকে বাজার টানে
বিকোবে আগোরা, স্বপ্ন হয়ে
হকারের ঐ চলন্ত ভ্যানে...
কাগজে টিভিতে রেসিপি ফ্যাসনে
মেন্যু হবে জলপাই
সামরিক রোলার গ্রেভি কিংবা
অলিভ পিপল ফ্রাই...
তবুও ভ্রমর করে ছোটাছুটি-
শীতের সঞ্চয় চাই
বুঝবে কি তারা, তাদেরই ভুলে
আসবে, আসছে যে জলপাই।


 বেজম্ম ঐরশ!

গনতন্ত্রের কুমারীমাতা এক সন্তান জন্ম দিয়েছে....
চারিদিকে ঘোর আলোচনা- পোলা কালা না ধলা!
অভিনন্দনের জোয়ারেও ভাসছে কেউ কেউ- বাধাই হো, বাধাই হো...

তোমার জন্য দুঃখ হয় হে সমাজ,
কুমারীমাতার জন্য, নবাগত সন্তানের জন্য
তোমার যে দরদ,
এ অপরাধও কম নয়
নাম না জানা সে পাপিষ্ঠ পিতার চেয়ে...

নবাগত সন্তান
তুমি হতে পারো, কালা কিংবা ধলা!
এতে আমার কিছুই যায় আসে না।
তোমার নিষ্পাপ মুখের দিকে চেয়ে আমার দুঃখ হয়-
কি বেজন্মা পরিনতি তোমার?
ভালোবাসার ঐরশ তোমায় অবৈধ জন্ম দিয়েছে..
আর সমাজের বিবেক বিক্রি ঐরশ
তোমাকে প্রকৃতই বেজম্মা করেছে!

ফোনালাপ ফাঁদ! নির্বাচন তো বটেই!

দুই নেত্রীর ফোনালাপ ফাঁস হওয়াটা প্রয়োজনীয় ছিলো!
এ কথা ঠিক যে, এ ফোনালাপ নিয়ে দেশবাসীর আগ্রহ আকাশ ছুয়েছিলো। তবে তাদের কথপকথন জানার জন্য নয় বরং এ ফোনালাপটা ফাঁস হওয়া প্রয়োজনীয় ছিলো-
খালেদা জিয়ার আপোষহীনতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা জানতে, এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক হীনমন্যতা বুঝতে...

প্রধানমন্ত্রী সংলাপের জন্য ফোন দিলেও, খালেদা জিয়া কেন হরতালের জন্যে সে প্রস্তাব গ্রহন করলেন না? হরতাল প্রত্যাহারের আহবান করার পরও কেন হরতাল প্রত্যাহার করলেন না?
সাদা চোখে, তাৎক্ষনিকভাবে দুদিন আগেও এ প্রশ্নগুলোই আলোচিত হচ্ছিল এবং খালেদা জিয়া বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচিত হচ্ছিল।
কিন্তু রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে দুই নেত্রীর ফোনালাপ মিডিয়া ফাঁস হওয়া প্রমান করেছে- ফোলকল, সংলাপ এসব আন্তরিক সদিচ্ছা নয় বরং রাজনৈতিক ফাঁদ। সাদা চোখে খালেদা জিয়ার যত সমালোচনাই হোক, অন্তত সময় প্রমান করেছে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। তিনি দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথায় ভোলেন নি, ফোনকল নাটকে আন্দোলন বন্ধ করে আবেগী ফাঁদে পা দেন নি।

অপরদিকে শেখ হাসিনা, যিনি মুখোমুখি রাজনৈতিক অবস্থানের সময়ে বিরোধী নেত্রীকে ফোন করে এবং সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে সবার সপ্রসংশ মনঃযোগ আকর্ষন করলেও কোন নোটিস বিহীনভাবে তা রেকর্ড করা এবং রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে শিষ্টাচার বহিঃভূত ভাবে তা মিডিয়া প্রচার হওয়া তার রাজনৈতিক হীনমন্যতাই প্রকাশ করেছে!

এখন প্রশ্ন আসতে পারে- সরকারই যে এ ফোনালাপ ফাঁস করেছে, এর সত্যতা কি?
এ কথা ঠিক যে এমন ঘটনার দায় কেউ স্বীকার না করলে নিশ্চিতভাবে দোষ দেয়াটা কঠিন। তবে প্রেমিক-প্রেমিকার অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁসের পর সে ভিডিওতে যদি একজনেই চেহারাই দেখা যায় আর অপর সঙ্গীর চেহারা না বোঝা যায়! তখন কি আর বুঝতে বাকি থাকে?
ফাঁস হওয়া ফোনালাপে শেখ হাসিনার স্বভাব বিরুদ্ধ শান্ত থাকা কি প্রমান করে?
বিষয়টির সাথে সেই জোকসের সাদৃশ্য খোঁজা যেতে পারে, যেখানে চালককে সাবধানে গাড়ি চালাতে দেখে-

সার্জেন্ট : আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সটা দেখি ।
গাড়ি চালক : আমি তো খুব সাবধানে গাড়ি চালাচ্ছি । বেআইনি কোনও কিছু তো করিনি । গাড়ির স্পিড ও তো ঠিক আছে ।
সার্জেন্ট : সেই জন্যই তো আমার সন্দেহ হল ।
তবে গাড়ি অতি সাবধানে চালানোর সন্দেহ আর সন্দেহ থাকে নি! লাইসেন্স দেখেই প্রমান হয়ে গেছে! যেমন প্রমান হয়েছে ফোনালাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কথায়- 'জনগণ অল্প জানবে কেন, তাই পুরোটাই জানার ব্যবস্থা করা হয়েছে'।

এখন অনেক গনতন্ত্রমনা, আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন- 'জনগনকে এ পুরো তথ্য জানানোয় আমি শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দেবো কিনা?
উত্তর : না।
জনগনকে পুরো তথ্য জানানোয় যদি ধন্যবাদ দিতে হয়, তবে তো আমাকে ধন্যবাদ দিতে হবে রাজিবকেও!
অপূর্বর সাথে প্রভার পলায়ন এবং বিয়ের পর যখন রাজিব-প্রভা-অপূর্ব নিয়ে চলছিল ত্রিমুখি মিডিয়া গসিপ।
তখন রাজিবই জনগনের উষ্নতার স্বার্থে শরিরালাপ প্রকাশ করেছিলেন! এবং মিডিয়া গসিপের আংশিক নয় বরং জনগনকে পুরো তথ্যই জানিয়েছিলো!
অনেকে হয়তো বলতে পারেন, এ তুলনাটা সঠিক হয় নি। রাজিব-প্রভার ব্যক্তি জীবনের সাথে দুই নেত্রীর কথোপকথন তুলনা যোগ্য নয়। দুই নেত্রী জাতীয় বিষয় নিয়ে সংকট উত্তোরনের জন্য কথা বলছিলেন। তাই এটা জাতীয় সম্পত্তি। জনগন এটা জানার অধিকার রাখে...
উত্তর : এক.- হেরোইন ছবিতে একটা ডায়ালগ আছে- 'তারকাদের জীবনও পাবলিক প্রোপার্টি'। তবে কি জনগনের সম্পত্তি নাম দিয়ে সব অন্যায় বৈধ হয়ে যাবে?
দুই.- ক'দিন আগে হাসিনা-এরশাদ মান ভাঙ্গানিয়া বৈঠকও নিশ্চই পাবলিক প্রোপার্টি! সেটা কি প্রকাশ করা হবে?
তিন.- যে যুদ্ধাপরাধির বিচার দেশবাসীর আগ্রহ আর আশাবাদের কেন্দ্রবিন্দু। সে বিচার সম্পর্কে জানার জন্য বিচারপতির স্কাইপি সংলাপও নিশ্চই পাবলিক প্রোপার্টি! তবে তা জানানোর জন্য মাহমুদুর রহমান জেলে কেন?
চার.- দুই নেত্রীর যদি পাবলিক প্রোপার্টিই হয় তবে ফোনালাপের শুরুতেই টিভিতে প্রচার করা হলো না কেন? কেন কোন নোটিস না করে গোপনে রেকর্ড করা হলো?
আসলে এটা ছিলো একটা ফাঁদ। যেটা ফোনালাপ ফাঁস হওয়াতেই প্রমান হয়েছে। প্রমান হয়েছে-
যার সাথে ফোনে কথা বলা নিরাপদ না, তার মিষ্টি কথায় আন্দোলন থেকে সরে আসাও সঠিক হতো না।
এটাই যদি হয় তার বিশ্বাসযোগ্যতা, তবে তার অধিনে সংলাপও নিরাপদ না, নির্বাচন তো নয়ই....

সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

কুতর্কের দোকান

 শীতের কাছে গরমের অপমান!!

বুঝলা জেমান, গরমে হইবো শীতের কাছে অপমান..
অবাক হইয়া কইলাম- 'কন কি সাঁইজি? এই আশ্বিন মাসে শীত পড়বো নাকি?
সাঁইজি একতারাটা হাতে নিয়া কন্ঠ ছাড়িল-
♫♪আওয়ামীলীগের হাড় কাঁপাইতাছে, ক্ষমতা হারানোর শীত
নেভার আগে প্রদিপ শিখার জ্বলন, বিপরীত
মায়ে গায় এক সুর আর পোলার গান ভিন্ন
এমন হইলে হইবো কেমনে? লক্ষ্য হইলে অভিন্ন♫♪

সুরের মায়া কাটাইয়া আমি কইলাম- 'বুঝলাম, তেল ফুরাইনা আওয়ামীলীগ এখন নেভার আগে তারুন্যের সইলতা জয়র দিয়া শেষ বারের মত জ্বলতে চাইতাছে! কিন্তু এখানে কোথায় শীত? আর কোথায় ভিন্ন গীত?
সাঁইজি হাসিয়া কইলো- 'বৎস, আওয়ামীলীগে পাইয়া বইছে ক্ষমতা হারানোর শীত। অপর দিকে তারুন্যের গরমে ওয়াজেদ জয় পুরাই বিপরীত। এই বিপরীত্ব খালি শীত-গরমের অনুভূতিতে না, এ বিপরীত্ব তাদের বক্তব্যেও!!! 'শীতের কাঁপনে যখন শেখ হাসিনা গাইছে- '‘প্রার্থী নয় নৌকা দেখে ভোট দিয়েন'। তখন তারুন্যের গরমে জয়ের সুর- 'মার্কা নয়, যোগ্য নেতৃত্ব'!
তা কথা হইলো, যোগ্য নেতৃত্ব যদি আওয়ামীলীগে থাকিত তবে দলীয় সভানেত্রীরে শুধু নৌকা দেখাইতে হইতো না! এখন জয়ের গরমে সাধারন ভোটার বাদই দিলাম দলীয় দালালেরাও যদি মার্কা বাদ দিয়া যোগ্য প্রার্থী!(মন্দের ভালো) বাছিয়া লয়, তবে আওয়ামীলীগের কি হাল হইবো?
আমি বিষ্ময় লইয়া কইলাম- 'ক্ষমতা হারানোর শীতের কাঁপন থামাইতে আসিয়া, জয়ের গরম তো আরো কাঁপন বাড়াইয়া দিবো!!!


সাঁইজি হাসিয়া কইলো- 'বুঝলাতো জেমান, গরমে হইবো শীতের কাছে অপমান'।


 বাস্তবতার তুফান!!

বুঝলা জেমান, অগ্নি শপথ নিভাইবে, বাস্তবতার তুফান..
অবাক হইয়া কইলাম- 'কন কি সাঁইজি? অগ্নি শপথ ভাঙ্গে ক্যামনে? আর ভাঙ্গিলে তা অগ্নি শপথ হয় ক্যামনে?
সাঁইজি একতারাটা হাতে নিয়া কন্ঠ ছাড়িল-
♫♪শপথেরও নাই দরজা
খাঁচা ভাঙ্গাও নয়রে সোজা
তবু পাখি যাবে উড়ে
শুন্য খাঁচা রবে পড়ে।।
বলে সাঁই, এ নয় ছলাকলা
খাঁচার যে নাই তলা♫♪
...
সুরের মায়া কাটাইয়া আমি কইলাম- 'আওয়ামীলীগের এক শাসনে তলা বিহীন ঝুড়ি'র কথা জানতাম কিন্তু তলা বিহীন শপথের কথা তো জানতাম না!! এখানে শপথের অগ্নিইবা কি আর বাস্তবতার তুফানইবা কি?
সাঁইজি হাসিয়া কইলো- 'বৎস,তলা বিহীন ঝুড়িওয়ালারা এখন মিডিয়ার আশির্বাদে আর কথার ফুলঝুড়িতে ভোটারদের চক্ষুসাফাই করতাছে! প্রচারকে অপপ্রচার নাম দিয়া ঘোলা পানিতে ক্ষমতা শিকারের পায়তারা করতাছে। ভাব দেখাইতাছে- 'অপপ্রচার রুখতে পারলেই আওয়ামীলীগ আবার ক্ষমতায়!!!
কিন্তু প্রশ্ন হইলো, আওয়ামী কথিত এ অপপ্রচার রুখবে কারা? আওয়ামীলীগের কর্মীরাইতো, নাকি???
এখন কথা হইলো- 'অপপ্রচার রুখবার অগ্নি শপথ নেয়া আওয়ামী একনিষ্ঠ কর্মিকেও দিনশেষে বাজারে যাইতে হয়! ৪৫ টাকা কেজিতে চাল আর ৮০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনতে হয়!! পেঁয়াজের ঝাঁঝে চোখে জল আসা সে কর্মীর নিশ্চই বুঝতে কষ্ট হয়- কোনটা অপপ্রচার? ৪৫ টাকায় চাল আর ৮০ টাকায় পেঁয়াজ? এটা কি অপপ্রচার? নাকি এ বাস্তবতাকে অপপ্রচারে ঢাকতে চাওয়াই অপপ্রচার?
বৎস, জীবনের প্রয়োজনে সে কর্মীকে বাজার করিতেই হইবে, আর এ বাস্তবতার তুফানে তার অপপ্রচার রুখার শপথ কি অটুট থাকিবে?

বুঝিলো জেমান, অগ্নি শপথ নিভাইবে, বাস্তবতার তুফান।


 অগ্নিসম জালা নিভাইতে বিদ্যুৎফুল মালা!!!

সাঁইজিকে কইলাম- 'সুন্দরবনের এ দূর্ভাগ্যের হেতু কি?
সাঁইজি কইলো- পরশ্রীকাতরতা....
অবাক হইয়া কইলাম- 'কন কি সাঁইজি? সুন্দরবন তো প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চার্য হয় নাই। হইলে না হয় কইতাম- ড. ইউনুসের মতো পুরষ্কার পাওয়াই সুন্দরবনের কাল হইছে...
পরশ্রীকাতরতা কি শুধু পুরষ্কারেই হয়??? বলিয়াই সাঁইজি একতারা হাতে নিলো-
♫♪হরিনের মাংসে, জাগে বাঘের সাধ
সুন্দর হওয়াটাই বড় অপরাধ।
কুটিলের প্রনাম্য নয়, দেবী স্বরসতী
কি করে মানিবে, তার চেয়ে সুন্দর সে অতি♫♪

সুরের মায়া কাটাইয়া আমি কইলাম- বাঘের নজরে, হরিনের মাংস হরিনের শত্রু হইতে পারে কিন্তু সৌন্দর্য্য সুন্দরবনের শত্রু হয় ক্যামনে?
সাঁইজি কইলো- 'আওয়ামীলীগের নজরে বৎস, আওয়ামীলীগের নজরে!!!
যে ফ্যাসিবাদী নজরে এখন আওয়ামীলীগই রাইট, অন্য সবাই রং, নুন্যতম ভিন্নমতও নাকি যুদ্ধাপরাধ বিচার বানচালের ঢং!!
আওয়ামীলীগের এমন লুকিং সেটাপে, সুন্দর মানেই আওয়ামীলীগ আর সুন্দরী মানেই নৌকা! সে মাইন্ড সেটাপে, সুন্দরী নামক গাছ আর সুন্দর নামক বন থাকিবে ভাবিলা কি করিয়া? বলিয়াই সাঁইজি গান ধরিল-
♫♪ সুন্দর নামেতেই, অগ্নিসম জ্বালা
পড়াইতে চাহে তারে বিদ্যুৎফুলমালা♫♪


 ব্যর্থতার বাতায়ন নাকি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন!!!

বুঝলা জেমান, লোডশেডিং এরও আছে ইতিবাচক অবদান..
অবাক হইয়া কইলাম- 'কন কি সাঁইজি? অন্ধকারে অবদান পাইলেন কৈ?
সাঁইজি একতারাটা হাতে নিয়া কন্ঠ ছাড়িল-
♫♪ও মন তুমি, খুঁজতে জানো না
পায়ের নিচে রইলো পড়ি
হাত দিলেই পাইতা সোনা
মন তুমি, খুঁজতে জানো না♫♪

সুরের মায়া কাটাইয়া আমি কইলাম- 'অন্ধকারে খুঁজলে হয়তো সোনা পাইতাম, কিন্তু অনেক খুঁইজাও তো লোডশেডিংএর অবদান পাইতাছি না!!
সাঁইজি কইলো- 'বৎস, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ...বিভিন্ন সময় কহিয়াছিলো- 'দশ ট্যাকা সের চাইল দিবো, ঘরে ঘরে চাকরী দিবো, ফ্রি'তে সার দিবো, বিরোধী দল থাইকা ডেপুটি স্পিকার দিবো, ঈদের পর ইচ্ছা কইরা লোডশেডিং দিবো...
বিষ্ময় লইয়া কইলাম- 'সাঁইজি, খুঁজতে গিয়া অবদান, এ তো দিতাছেন ব্যর্থতার খতিয়ান?
মুচকি হাসিয়া, সাঁইজি কইলো- 'এখানে শুধু ব্যর্থতার মেঘই দেখলা, আড়ালে থাকা সফলতার সূর্য দেখলা না!! তোমরা শুধু লোডশেডিংয়ের আধারই দেখলা, প্রতিশ্রুতি পালনের আলো দেখলা না!
বৎস, অন্য সবকিছুতে যেখানে খুলিয়াছে ব্যর্থতার বাতায়ন, ঘনঘন লোডশেডিং যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন।
তাই লোডশেডিংয়ে হতাশ হইয়ো না! বরং আরো লোডশেডিং কামনা কর!! ইহাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রক্ষা হোউক, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার অভ্যাস হোউক। বলিয়াই সাঁইজি একতারা হাতে নিলো-
♫♪লোডশেডিং এমনে প্রতিশ্রুতি ভূবনে
বাস্তবায়নের অভ্যাস করে, গোপনে গোপনে♫♪

আমি লোডশেডিংয়ের অন্ধকার অজ্ঞতায় চুপসে গেলাম।
সাঁইজি হাসিয়া কইলো- 'বুঝলাতো জেমান, লোডশেডিংয়ের ইতিবাচক অবদান!