শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৩

অবোধগম্য অনুভূতি!

গ্রামীনফোনের আবেগঘন অথচ বাসতসম্মত বিজ্ঞাপনের মতোই এ দেশের অবস্থা!!
মেয়ে কলেজ যাচ্ছে, আর চুপিচুপি পিছু নিচ্ছে বাবা। অবশেষে বাবা যখন ধরা পড়ে যায়, মেয়ের সেকি রাগ!
বড় হওয়ার আত্বসন্মানী অভিমানে মেয়েটি বলে চলে- 'তোমারে কতবার না কইছি, এভাবে পিছু নিবা না। তুমি কি আমারে বড় হইতে দিবা না?
ছলছল অপরাধী চোখে বাবা বলে- 'বাপ হইলে বুঝতি রে মা!"
 

আসলে সন্তানেরা এভাবে বোঝে না! বোঝেনা ক্ষমতাশীনেরাও!
তাইতো বিজ্ঞা...পনের অভিমানি কন্যার মতোই বঙ্গবন্ধু কন্যা সমালোচনার অভিমানে, জনগনকে শিক্ষা দেবার জন্য ঈদের পরে ঘোষণা দিয়ে চার দিন বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার কথা বলেছেন!!!

জনগন এখন কি করবে?

বিজ্ঞাপনের সেই বাবার মতো ছলছল অপরাধী চোখে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে পারে- 'জনগন হলে বুঝতি রে মা। শেয়ার বাজারে নিঃস্ব হলে বুঝতি। যানজটে ঘন্টা খানেক আটকা থাকলে বুঝতি। ব্যাগ হাতে বাজারে গেলে বুঝতি...বুঝতি রে মা, জনগন হইলে বুঝতি....'

২ + ২ = ১৪!!!

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের রায়ের আগে সাঁইজিকে কইলাম- 'অবশেষে তাইলে জামায়াত নিষিদ্ধ হইতাছে...
সাঁইজি হাসিয়া কইলো- 'এ ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি মার্কা স্বপ্ন বাদ দাও!
আমি বিষ্ময় লইয়া জিগাইলাম- 'মানে কি?
সাঁইজি কইলো- 'মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। তোমার উচ্চতা যেহেতু ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি তাই এ স্বপ্নও ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি...কিন্তু বাস্তবতা যে প্রাগৈতিহাসিক!!!
আমি কইলাম- 'প্রাগৈতিহাসিক.....
... সাঁইজি কইলো- 'চিন্তা করো বৎস, এখানেই রহিয়াছে চিন্তাশীলের জন্য নিদর্শন। প্রাগৈতিহাসিকে প্রাচীর পায়ের দগদগে ঘাঁ কেন চিকিৎসা বিহীন রহিয়া যায়?
আমি জবাব দিলাম- 'এ ঘাঁ ই যে ব্যবসার পুঁজি! ঘাঁ সারিলে যে ভিক্ষায় ভাটা পড়িবে!
সাঁইজি হাসিয়া কইলো- 'প্রাগৈতিহাসিক কাল হইতে ইহাই রীতি, তা ভিক্ষাবৃত্তিতেই হোক কিংবা চেতনা ব্যবসায়। চিকিৎসা করিয়া, আইন করিয়া কেই বা পুঁজি হারাইতে চায়.....


কিন্তু সাঁইজির অনুমান মিথ্যা প্রমান করিয়া, আদালতে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হইলো!  বিজয়ের হাসি হাসিয়া, সাঁইজিকে কহিলাম- 'প্রাগৈতিহাসিক কাল কি আর আছে সাঁইজি? দিন বদলাইছে না? প্রাচীর ঘা না সারিলেও জামায়াত কিন্তু ঠিকই নিষিদ্ধ হইয়াছে!
বিরক্তি নিয়া সাঁইজি কইলো- 'তোমরা হইলা হাইকোর্ট দেখা বাঙ্গাল! অল্প পানির রাজনৈতিক ব্যাঙ, সমুদ্রের বেশী পানির রাজনৈতিক প্যাচে পইড়া লাফাইতাছ...
আমি কইলাম- মানে কি?
সাঁইজি কইলো- 'জামায়াত তো নিষিদ্ধ হয় নাই, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হইয়াছে মাত্র।
আমি কইলাম- 'ঐ একই তো হইলো?
সাঁইজি হাসিয়া কইলো- 'ওরে বেভুল তুই করছিস ভুল। ফেসবুকে আইডি ব্লক আর রং পাসওয়ার্ডে এন্টার চাপায় লগইন ব্যর্থতা কি এক হইলো? যদিও দুইডাই লগআউট অবস্থা!
আমি কইলাম- 'না। রং পাসওয়ার্ডে এন্টার চাপার লগইন ব্যর্থতা, রাইট পাসওয়ার্ডে লগইন হবে কিন্তু ব্লক হইলে তো আইডি ই গেল....
সাঁইজি কইলো- 'এখানেই রহিয়াছে চিন্তাশীলের জন্য নিদর্শন। রাজনৈতিক রং পাসওয়ার্ডে এন্টার মারা জামায়াত, আওয়ামী সঠিক পাসওয়ার্ডে এন্টার মারিলেই আবার নিবন্ধনে লগইন করিবে....
বলিয়াই সাঁইজি শুরু করিল, রক এন্ড রোল- "কলিজায় সাউন্ড মারছে ৯৬'র ডাক, ডারলিংয়ের নিবন্ধন আজ জিন-ভূতে খাক"...
আমি বিরক্তি নিয়া কইলাম- 'স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে এ আপনার কেমনতর বিবেচনা?
সাঁইজি হাসিয়া কইলো- 'দুইয়ে দুইয়ে চার মিলাও বৎস। উপাত্ত হিসাবে মন্তব্য দুইডাও রাখিও-
মন্তব্য এক.- "শর্ত পূরন করে ফের আবেদন করতে পারবে জামায়াত"--নির্বাচন কমিশনের প্রধান আইনজীবি শাহদীন মালিক।
মন্তব্য দুই.- "জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই"--সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

তাগাদার স্বরে সাঁইজি কইলো- 'কিহে, দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়াছে?
আমি করুন স্বরে কইলাম- আমার তো চার মিলিয়াছে সাঁইজি! কিন্তু অনেকেই দেখি দুইয়ে দুইয়ে, চারের আগে এক বসাইয়া চৌদ্দ মিলাইতাছে!
সাঁইজি হাসিয়া কইলো- 'দলকাঁনারা তো দিন শেষে চৌদ্দই মিলাবে, মিলিবে! হাজার হোক জোটটা তো চৌদ্দ দলেরই, নাকি?

শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৩

কত ধানে, কত চাল!!!

গরিবের কথা বাসি হলে ফলে!
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার অছিউদ্দিনের একটি ধানের ভেতর থেকে দুই থেকে তিনটি চাল আবিষ্কারের খবর দেখে দুই মাস আগে এক কলামে লিখেছিলাম- ""এবার এক ধানে পাওয়া যাবে দুই চাল"। শুধু কৃষি প্রধান দেশ বলেই নয়, নির্বাচনের বছরে এ অসাধারন ঘটনাটি, সাফল্যের এক অনন্যসাধারন রাজনৈতিক রুপক। কৃষি গবেষনার এ সফলতা ১৬ কোটি(!!) মানুষের যেমন খাদ্য ঘাটতি পূরন করবে। তেমনি এ ঘটনায় অনুপ্রানিত রাজনৈতিক গবেষনায় সব দলের অংশ গ্রহনে নির্বাচনকে গ্রহনযোগ্য করে তুলবে! অদূর ভবিষৎ এ এদেশের মাঠে শুধু এক ধানে দুই চালই বেরোবেনা, নিকট ভবিষৎএ এ দেশের রাজনৈতিক ময়দানে এক 'ধানের শীষে' দুই বা ততোধিক দলও বেরোবে! ফলে খাদ্য ঘাটতি যেমন মিটবে, তেমন দলীয় সরকারের অধীনে অগ্রহনযোগ্য নির্বাচনের গ্রহযোগ্যতার ঘাটতিও মিটবে....! অভিনন্দন কৃষি গবেষকেরা। অগ্রিম অভিনন্দন রাজনৈতিক গবেষকেরা....!!!"
ইতিমধ্যেই মাহশাল্লাহ্ এ গরিবের কথার সফল ফলনে  রাজনৈতিক গবেষকদের গবেষনায় নতুন দল হিসাবে নিবন্ধিত হতে যাওয়া বিএনএফকে গমের শীষ প্রতিক বরাদ্ধ দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন!!!!
নুন্যতম স্থানীয় নির্বাচনের একই ব্যালটে কলস আর জগ প্রতিক থাকার বিরম্বনা সম্পর্কেও যদি ধারনা থাকে তবে জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে এমন হটকারী স্বীদ্ধান্ত নেবার সুযোগ নেই। পারস্পারিক আস্থা, বিশ্বাসের ঠুনকো রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা দু দলকে নির্বাচনে আনা এবং অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন সম্পন্ন করার কান্ডারি হিসাবে নির্বাচন কমিশনের এ স্বীদ্ধান্ত অবিবেচনা প্রসুত এবং একটি বিশেষ দলের প্রতি সুস্পষ্ট পক্ষপাত! যা কিনা ভবিষৎ এ শুধু খারাপ দৃষ্টান্ত হিসাবেই নয় বরং কার্যকরও হবে! সাক্ষরতা দিয়ে শিক্ষার হার বাড়ানো পশ্চাৎপদ একটি দেশে ধানের শীষকে বেকায়দায় ফেলতে গমের শীষ প্রতিক দিয়ে বরং ভবিষৎ এ নৌকাকে বেকয়দায় ফেলতে ছই বিহীন নৌকা প্রতিক বরাদ্ধ দেয়ার নোংরামির সূচনা করা হলো.....শেইম ইসি। শেইম ইসি'র কাঁধে বন্দুক রাখা সরকারি ভিসি!!!

 এখানে সরকারি ভিসি, বলতে চালবাজ সরকারকেই বোঝানো হচ্ছে। যারা বাজারে এনেছে এ নতুন চাল!
বাজারে এখন হরেক রকমের চাল!!! মিনিকেট, আটাশ, জিরা, নাজিরশাহ.....আরো আছে আতোপ চাল, পোলাও চাল, আছে রাজনৈতিক চাল! তবে এই মুহূর্তে বাজারের সেরা চাল সম্ভবত বিএনপিকে ঘায়েল করতে বিএনএফ দল এবং তাদের গমের শীষ প্রতিক দেওয়া আওয়ামী চাল!
নতুন এ উদ্ভাবনী চালের জন্য চালবাজ সরকার অভিনন্দন প্রাপ্য। যদিও কথায় আছে- 'পুরানো চাল ভাতে বাড়ে'। আর জনসমর্থনই যে রাজনৈতিক দলের পুরানো এবং চিরন্তন চাল। জনসমর্থন হারিয়ে, ধানের শীষ আর গমের শীষের ধোয়াসার নতুন কূট চালে, ভাত কতটুকু বাড়বে? আর ভোটেই বা কতটুকু প্রভাব পড়বে?
তবে এ কূটচালে ভাত আর ভোট বাড়ুক না বাড়ুক। অন্তত '"দশ ট্যাকা সের চাল খাবো, আওয়ামীলীগে ভোট দেবো" শ্লোগান দেয়া জনগনকে দশ ট্যাকা সের চাল খাওয়াতে না পারলেও, ফ্রি তে যে কূট চাল খাওয়ানো যাচ্ছে! এটাও চালবাজদের বড় সফলতা!!

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন- নতুন দল পয়দা হইছে, ভালো কথা। তা প্রতিক গমের শীষ হলো কেন?
আসলে জনসংখ্যাধিক্যে খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায়, আপনাকে হয় খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে নয়তো জনসংখ্যা কমাতে হবে। তেমনি জনসমর্থনহীনতায় ভোট ঘাটতি মোকাবেলায়, সরকারকে হয় নিজেদের ভোটার বাড়াতে হবে নয়তো প্রতিপক্ষের ভোট কমাতে হবে।
কিন্তু সরকারের জন্য পরিহাস হলো, শেয়ার বাজার, হলমার্ক, পদ্মাসেতু, ছাত্রলীগ, হেফাজত ইস্যু সহ দাম্ভিকতার ভাঙ্গাতরী ছেঁড়া পালে আর কতকাল??? পাঁচ সিটির ফলাফলই যার প্রমান এবং ভবিষৎ পরিনতির নমুনা। জনসমর্থনের আর অদক্ষতার তলানীতে থেকে সরকারের পক্ষে যেহেতু নিজেদের ভোট বাড়ানো সম্ভব নয় তাই অবধারিত ভাবেই বিএনপি তথা ধানের শীষের ভোট কমাতে হবে। আর এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবেই নিবন্ধন পেয়েছে বিএনএফ এবং প্রতিক পেয়েছে গমের শীষ।

দলীয় সরকারের অধীনে ধান আর গমের একাকার ছাড়াও আরো দুইটি বিষয় এখানে আশংকা জাগানিয়া!
আশংকা এক.- ভোট গ্রহন শেষ হয় বিকালে। অর্থ্যাৎ ভোট গননা হয় বিকালের হালকা আলোয়। যেখানে প্রশাষনিক প্রভাবে ধানের শীষের ব্যালট, গমের শীষের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হতে পারে।
আশংকা দুই.- শেষ পর্যন্ত যদি বিএনপি দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচনে না আসে তবে বিএনপি'র স্থলে বিএনএফ'কে এবং ধানের শীষের স্থলে গমের শীষ দেখিয়ে নির্বাচন বৈধ করার চেষ্টা করা হবে।
আসল কথা হলো, ফাউল রাজনীতিতে এটা আওয়ামীলীগের বড় একটি ফাউল। আর এ ফাউল সম্পর্কে গরিবের ভবিষৎবানী হলো- এটা নোংরামির দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। যার ফলে একসময় আসবে যখন আওয়ারা লীগ নামে নতুন দল পয়দা হবে! আর যার প্রতিক হবে ছই বিহীন নৌকা!
দেখা যাক গরিবের এ কথাটাও বাসি হলে ফলে কিনা........