সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৩

তুমি আর নেই সে তুমি!!!

আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ চলছে...
গ্রীষ্মের দাবদাহ পেরিয়ে আর আম-কাঁঠাল পাকা গুমোট গরম ছাপিয়ে যখন নামছে স্বস্তির বৃষ্টি।
কিন্তু হায়! আষাঢ়ের বরষন শুধু প্রকৃতি আর মানব শরিরেই শান্তি আনতে পারছে, এদেশের রাজনীতি এবং রাজনীতি প্রিয় মানুষের মনে শান্তি আনতে পারছে না! পারবেই বা কি করে? এদেশের প্রকৃতি বৈচিত্রময়, রাজনীতি নয়! এদেশের প্রকৃতিতে গ্রীষ্ম পেরিয়ে বর্ষা আসে কিন্তু রাজনৈতিক পালা বদল সেই একই ভাঙ্গা রেকর্ড! একই তালে, একই সুরে বারবার বেজে যাওয়া একই উৎকন্ঠা। নির্বাচন নিয়ে একই অনিশ্চয়তা! বৈচিত্রহীন এ রাজনীতিতে গ্রীষ্মের পর শুধু গ্রীষ্মই আসে বর্ষা আসে না!
রাজনীতির এ চিরন্তন হতাশা নিয়েই বারান্দায় দাড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিলাম। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টি ভেজা বাতাস আমাকে করছে শিতল, বাতাসের ঝাপটায় ছুটে আসা বৃষ্টি ফোটা আমাকে করছে শিহরিত। আমি হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছুই, ভিজি। রুমে বেজে চলছে, ভেসে আসছে হৈমন্তি শুক্লার গান-
♫♪ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুয়ো না,
আমার এতো সাধের কান্নার দাগ ধুয়ো না,
সে যেন এসে দেখে,পথ চেয়ে তার কেমন করে কেঁদেছি ।।
দোহাই গানের বীণা,মনকে ভরে তুলো না, ।।
দেখেই তাকে ব্যথার এ গান ভুলো না,
সে যেন এসে শোনে,তার বিরহে কী সুর আমি সেধেছি ।।
ক্লান্ত প্রদীপ ওগো,হঠাৎ আলোয় ফুটো না,।।
দেখেই তাকে উজল হয়ে উঠো না,
সে যেন এসে জানে,কোন আঁধারে এ রাত আমি বেঁধেছি ।।♫♪

হঠাৎ করে বৃষ্টি আমার কাছে দৃষ্টি কটু হয়ে ওঠে! আমি ভাবি, বৃষ্টি যদি আমার চোখের পাতা ছুয়ে দেয়? গনতন্ত্রের জন্য, একটি সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য আমার সাধের আবেগের দাগ ধুয়ে দেয়? বৃষ্টি যদি সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য তত্বাবধায়ক সরকারের পথ চেয়ে কান্নার আকুতি মুছে দেয়?
যদিও ইতিমধ্যেই ৪ টি সিটিতে দলীয় সরকারের সময়েই সুষ্ঠ নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু দোহাই গনতন্ত্রের মুলা, মনকে ভরে তোলা যাবে না, দেখেই তাকে ব্যথার আশংকার গান ভোলা যাবে না। সরকারের দমনে ক্লান্ত প্রদিপ, এ হঠাৎ আলোয় ফোটা যাবে না। ৪-০ ফল দেখেই উজ্জল হয়ে ওঠা যাবে না।

হঠাৎ করে অসহ্য হয়ে ওঠা বৃষ্টি আর বৃষ্টির গান থেকে বাঁচতে আমি চলে যাই রুমে। গানের প্লে লিস্ট চেন্জ করে সব সময়ের প্রিয় শচীন দেব বর্মন সিলেক্ট করেই হাতে নিয়েছি দৈনিক পত্রিকা। বাহিরে ঝুম বৃষ্টির শব্দ, রুমে চলা মৃদু স্বরে বেজে যাওয়া গান পাশে রেখেই আমি পড়ে চলছি-  শনিবার গণভবনে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকার-বিষয়ক দাবি প্রসঙ্গে বলেছেন, "অনির্বাচিত কোনো সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে একবার নির্যাতন-অত্যাচার চালিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও আমাকে জেলে পাঠিয়েছে।"
 তিনি আরো বলেন, "এর আগে তারা তিন মাসের জন্য ক্ষমতায় এসে দুই বছর পার কেরছে। আরেকবার ক্ষমতায় আসলে তিন বছর নয়, কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে।"
আমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি। প্লেয়ারে তখন বেজে চলছে- 
♫♪তুমি আর নেই সে তুমি. তুমি আর তুমি আর তুমি আর নেই সে তুমি। জানি না জানি না কেন এমনও হয়, তুমি আর নেই সে তুমি.♫♪
আমি ভাবছিলাম- শচীনজি, তুমি আসলেই গ্রেট। তুমি, তোমার সৃষ্টি আজো প্রাসংগিক। তুমিরা কখনোই আর সেই তুমি থাকে না। আগেও না, এখনো না এমনকি ভবিষেৎও থাকবে না!
একসময় যিনি তত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিলো, প্রচার করেছিলো তত্বাবধায়ক সরকার তার ব্রেইন চাইল্ড। 'নির্যাতক' সেনা-সমর্থিত সরকার ক্ষমতা দখলের পরও যিনি তাকে নিজেদের 'আন্দোলনের ফসল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলো। ক্ষমতায় গিয়ে তাদের সকল কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেবেন মর্মেও ঘোষণা দিয়েছিলো, যেই তিনি। তিনি আর নেই সে তিনি।
তবে দিনবদলের কথা বলে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রীর এতটুকু বদল হয়তো সহজেই মেনে নেয়া যায় কিন্তু মেনে নিতে কষ্ট হয় তার ব্রেইন চাইল্ডকে তিনিই যখন জনমতকে উপেক্ষা করে হত্যা করেন। কিসের স্বার্থে? এর মাঝে কি দুরভিসন্ধি লুকিয়ে আছে?
আজ তিনি তত্বাবধায়ক বাতিলে নির্যাতন-অত্যাচার, জেল-জুলুম আর কেয়ামতের ভয় দেখান। অথচ তার আন্দোলনের ফসলের  নির্যাতন-অত্যাচার, জেল-জুলুমের দায় কি অবলিলায় এড়িয়ে যান। এ দায় তিনি এড়াতে পারেন না। তার আন্দোলন ফসলেই সেনা সমর্থিত সরকার ৩ মাসের জন্য ক্ষমতায় এসেছিলো আর তার সকল কাজের বৈধতা দেবার ঘোষনাতেই তারা দুই বছর পার করার সাহস পেয়েছিলো এবং এখনো নিরাপদে আছে! এ দায় বদলে যাওয়া তিনি কিভাবে অস্বীকার করবেন?

দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ব্যক্তির দূর্বল নৈতিক অবস্থানের হতাশায় ছুড়ে ফেলি পত্রিকা!
বাহিরে তখনো বৃষ্টির শব্দ, প্লেয়ারে তখনো বেজে চলছে-
♫♪তোমার চোখেরও পাতা নাচে না
নাচে না আমারো পথ চেয়ে
তোমার পায়ে পায়ে মল বাজে না
বাজে না আমারো সাড়া পেয়ে 
হাসো না হাসো না সে হাসি মধুময়
তুমি আর নেই সে তুমি♫♪

বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০১৩

সত্য সেখানে চাপা পড়বেই

বিশ্বাসীরা তো বিশ্বাসী বটেই,
এতদিন যারা বলেছে অবিশ্বাস দীর্ঘজীবি হোক-
তারাও বিশ্বাস এনেছে প্রশ্নবিহীন অনুগত্যে!
বিশ্বাস এনেছে আবেগের অতিশয্যে....


আসলে ব্যাপারটা হলো-
মতাদর্শ প্রচারই যেখানে চুরান্ত লক্ষ্য
যুক্তি যেখানে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করার যন্ত্র
ভন্ডামি যেখানে সুশিলতার পরিচায়ক
সত্য সেখানে চাপা পড়বেই....

আর চাপা পড়া, বিচ্ছিন্ন হওয়া,
সে সত্যের গলিত লাসের ফসিল
আবেগ, বিশ্বাস আর মতাদর্শের ফর্মায় ফেলে
হয়ে যাবে চিরন্তন!!!
পূজারিরা মাথা ঝুকাও....

সত্যের পচে  যাওয়া, গলে যাওয়া
মাংসপিন্ড, কখনো ভারী করবে বাতাস,
সে দুর্গন্ধময় বাতাসও চাপা পড়বে-
ব্যাক্তি পূজারিদের,
ধুপ আর আগরবাতির কৃত্তিম সুবাসে


পূজারিরা মাথা ঝুকাবে...
মাথা ঝুকাবে- প্রশ্নবিহীন অনুগত্যে!
মাথা ঝুকাবে- আবেগের অতিশয্যে....

শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৩

নিশ্চিন্ত প্যাকেজ রকস! জনগন শকস!!



দেশের সবকিছুই এখন চলছে, গ্রামীনফোনের নিশ্চিন্ত প্যাকেজে!
মাছের বাজার থেকে শেয়ার বাজার, আক্কেল ডেন্টাল থেকে কুইক রেন্টাল, ঝাকুনির হেতু থেকে পদ্মা সেতু!
এছাড়াও শিবিরের চোরাগোপ্তা হামলা, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর সাজানো মামলা!
তত্বাবধায়ক ইস্যু আর তা ঠেকেনোর জন্য সংশোধনী টিস্যু!
ধ্বসে পড়া শ্রমিকের লাশ, আর তার ওপর দাড়িয়ে রাজনৈতিক উপহাস!
সবকিছুই চলছে নিশ্চিন্ত প্যাকেজে......
তবে এ নিশ্চিন্ত প্যাকেজের ব্যান্ড অ্যামবাসেডর সম্ভবত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিত!
শেয়ার বাজারে যখন কোটি কোটি টাকা লুটে নেয়া হলো, তিনি ছিলেন নিশ্চিন্ত! বললেন- "এ বাজার দুষ্টু বাজার"!
হলমার্ক কেলেংকারিতে দেশের ব্যাংকি খাত যখন টালমাটাল, তিনি তখন নিশ্চিন্ত প্যাকেজের মোড়ক খুলে বললেন-"চার হাজার কোটি টাকা, এটা কোন বড় অঙ্কের অর্থ নয়। এ নিয়ে হৈচৈ করারও কিছু নেই”!
সাভারে ভবন ধ্বসে যখন ৫২৮জন(এখন পর্যন্ত প্রকাশিত) নির্মম ভাবে মারা গেল, নিশ্চিন্ত প্যাকেজের বড় বিজ্ঞাপনে তিনি বললেন-"সাভারের ঘটনা তেমন বড় কিছু নয়"!

নিশ্চিন্ত, সবই নিশ্চিন্ত! জমি-জিরাত বিক্রি করে, বাপের পেনশনের টাকা ভেঙ্গে, মায়ের বিয়ের বালা বিক্রি করে শেয়ার বাজারে সরকারের দুষ্টুমিতে পুঁজি হারিয়েছি, তবুও মেনে নিয়েছি.....
আমাদের ট্যাক্সের টাকায় গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে হাজার কোটি লুটে নিলো হলমার্ক, তবুও চার হাজার কোটি টাকা বড় কিছু নয় ভেবে সহ্য করেছি এ কথা ভেবে - যে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আপ্যায়নে একদিনেই ব্যয় হয় ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা! সে দেশে হয়তো চার হাজার কোটি সত্যি বেশি কিছু নয়!
কিন্তু আমার ভাই, বোনেরা যখন স্বার্থের ক্রংকিটে চাপা পড়লো! লাশের সংখ্যা যখন সেঞ্চুরির রেকর্ডের পর রেকর্ড ভাঙ্গলো! অন্তত প্রিয়জনের শরিরের একটুকরা গলিত মাংস পিন্ডের জন্য, এক বিকৃত অবয়বে একমুঠো মাটি দেবার জন্য, রাতের পর দিন, বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকালো! সেই শোকের ওপর দাড়িয়ে, চার অংকের(!) লাসের, ক্ষতবিক্ষত শরির আর বিক্ষত হৃদয়ের ওপর দাড়িয়ে- আমি কি করে নিশ্চিন্ত হবো? অর্থমন্ত্রীর বেহুদা কথায়, কিছুই হয়নি মেনে নেবো?

নাদের আলী, আমি আর কত বড় হবো? আমি আর কত নিশ্চিত হবো? আমি আর কত বেহায়া হবো?