শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৩

নিশ্চিন্ত প্যাকেজ রকস! জনগন শকস!!



দেশের সবকিছুই এখন চলছে, গ্রামীনফোনের নিশ্চিন্ত প্যাকেজে!
মাছের বাজার থেকে শেয়ার বাজার, আক্কেল ডেন্টাল থেকে কুইক রেন্টাল, ঝাকুনির হেতু থেকে পদ্মা সেতু!
এছাড়াও শিবিরের চোরাগোপ্তা হামলা, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর সাজানো মামলা!
তত্বাবধায়ক ইস্যু আর তা ঠেকেনোর জন্য সংশোধনী টিস্যু!
ধ্বসে পড়া শ্রমিকের লাশ, আর তার ওপর দাড়িয়ে রাজনৈতিক উপহাস!
সবকিছুই চলছে নিশ্চিন্ত প্যাকেজে......
তবে এ নিশ্চিন্ত প্যাকেজের ব্যান্ড অ্যামবাসেডর সম্ভবত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিত!
শেয়ার বাজারে যখন কোটি কোটি টাকা লুটে নেয়া হলো, তিনি ছিলেন নিশ্চিন্ত! বললেন- "এ বাজার দুষ্টু বাজার"!
হলমার্ক কেলেংকারিতে দেশের ব্যাংকি খাত যখন টালমাটাল, তিনি তখন নিশ্চিন্ত প্যাকেজের মোড়ক খুলে বললেন-"চার হাজার কোটি টাকা, এটা কোন বড় অঙ্কের অর্থ নয়। এ নিয়ে হৈচৈ করারও কিছু নেই”!
সাভারে ভবন ধ্বসে যখন ৫২৮জন(এখন পর্যন্ত প্রকাশিত) নির্মম ভাবে মারা গেল, নিশ্চিন্ত প্যাকেজের বড় বিজ্ঞাপনে তিনি বললেন-"সাভারের ঘটনা তেমন বড় কিছু নয়"!

নিশ্চিন্ত, সবই নিশ্চিন্ত! জমি-জিরাত বিক্রি করে, বাপের পেনশনের টাকা ভেঙ্গে, মায়ের বিয়ের বালা বিক্রি করে শেয়ার বাজারে সরকারের দুষ্টুমিতে পুঁজি হারিয়েছি, তবুও মেনে নিয়েছি.....
আমাদের ট্যাক্সের টাকায় গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে হাজার কোটি লুটে নিলো হলমার্ক, তবুও চার হাজার কোটি টাকা বড় কিছু নয় ভেবে সহ্য করেছি এ কথা ভেবে - যে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আপ্যায়নে একদিনেই ব্যয় হয় ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা! সে দেশে হয়তো চার হাজার কোটি সত্যি বেশি কিছু নয়!
কিন্তু আমার ভাই, বোনেরা যখন স্বার্থের ক্রংকিটে চাপা পড়লো! লাশের সংখ্যা যখন সেঞ্চুরির রেকর্ডের পর রেকর্ড ভাঙ্গলো! অন্তত প্রিয়জনের শরিরের একটুকরা গলিত মাংস পিন্ডের জন্য, এক বিকৃত অবয়বে একমুঠো মাটি দেবার জন্য, রাতের পর দিন, বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকালো! সেই শোকের ওপর দাড়িয়ে, চার অংকের(!) লাসের, ক্ষতবিক্ষত শরির আর বিক্ষত হৃদয়ের ওপর দাড়িয়ে- আমি কি করে নিশ্চিন্ত হবো? অর্থমন্ত্রীর বেহুদা কথায়, কিছুই হয়নি মেনে নেবো?

নাদের আলী, আমি আর কত বড় হবো? আমি আর কত নিশ্চিত হবো? আমি আর কত বেহায়া হবো?

শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৩

হয়তো ওদেরই ভুল!!!



হয়তো ওদেরই ভুল!
নয়তো কেনই বা, অঁজপাড়া গাঁয়ের রহিম কিংবা রহিমা
নুন্যতম সন্মান আর সমৃদ্ধির জন্য আসে লাশ হতে!

তাগড়া যুবক রহিম কিংবা করিম,
গৃহস্থের কামলা হয়ে কিংবা রিক্সার প্যাডাল ঘুরিয়ে
বেশ ভালোই খেয়ে পড়ে, বেঁচে থাকতে পাড়তো...
হতাশ কেউ কেউ,
অভাবে স্বভাব নষ্টে...
করতে পারতো সিঁধেল চুরি কিংবা অন্যের পকেট সাফাই...

সদ্য কিশোরী রহিমা কিংবা সকিনা,
অভাবের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যার
বুক আর শরিরের বাঁক...
বিকাশমান গতরের খাটুনিতে
বুয়া বেশে,
গৃহকর্তৃর আড়ালে গৃহকর্তার টিপ্পুনি হজম করে
কেটে যেতে পারতো, নিরবতাময় এক নিরব জীবন।
কেউ কেউ অভাবি যৌবনে,
বাঁকা শরিরের সাথে চরিত্রকে বাঁকিয়ে-
বস্ত্রহীন বুকটা আরেকটু উন্মুক্ত করে-
ক্ষুধার্ত পেট ভরানোর পাশাপাশি
আরেকটু লোভে নিজেকেই ভরাতে পারতো
লোলুপ ষাঁড় কিংবা পাঁঠার ঐরশে...

তবুও তারা বেঁচে থাকতো
বেঁচে থাকতো, কামলা কিংবা বুয়া হয়ে
চোর কিংবা বেশ্যা হয়ে-

যে মেয়েটির বুকে ভেঙ্গেছে, কংক্রিটের দেয়াল
রং-চং মেখে সন্ধ্যায়, সংসদের কোণায় দাঁড়ালেই
সে বুক আজ শিহরিত হতো লম্পটের নরম ঠোঁটে।
আঘাতে বিচ্ছিন্ন হয়েছে যে ছেলেটির হাত
লোকাল বাসের ভিরে, পকেট সাফাইয়ে
সে হাত আজ খুঁজে নিতো সারাব আর সাবাব।

হয়তো ওদেরই ভুল!
ওরা কামলা হয়নি, ওরা বুয়া হয়নি
চোর কিংবা বেশ্যাও হয়নি...
সন্মানজনক জীবিকায় যারা বাঁচতে চেয়েছে,
সুই-সুতোর বুননে, স্বপ্ন বুনতে চেয়েছে...
অথচ স্বপ্নের প্রাসাদই তাদের ওপর ভেঙ্গে পড়েছে,
তাদের নির্মম মৃত্যু হয়েছে...

হয়তো ওদেরই ভুল!
চোর হলে যে সমাজে বেঁচে থাকা যায়,
বেশ্যা হলে যে সমাজে টিকে থাকা যায়,
সে সমাজে সন্মান নিয়ে বাঁচতে চাওয়াটা ভুল
নয়তো এ সমাজে জন্ম নেয়াটাই,
ওদের ভুল!

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৩

আওয়ামী অবমাননার ব্লাসফেমি!!!

'আমার দেশ' আমার নিয়মিত পঠন তালিকায় না থাকলেও দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত পাঠ্য হয়ে উঠেছিলো..
এ কথা ঠিক যে, আমার দেশ পত্রিকা এবং সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের অনেক ভুমিকাই ছিলো দলীয় পক্ষপাতে দুষ্ট, এক কথায় অখাদ্য...
আবার এ কথাও ঠিক যে, সরকারের সৈরাচারি আচরনে যখন অন্যান্য পত্রিকাগুলো সুশিল পক্ষপাতের ব্যালান্স চেষ্টায় সেলফ সেন্সরশীপে যাচ্ছিলো, তখন মাহমুদুর রহমান জাউরামির বিপরিতে অধিক জাউরা হয়ে খেলছিলো....
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি উক্তি প্রাসংগিক ভাবেই এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে-
"ভদ্রলোকের সাথে ভদ্রলোকের মত করেই খেলো ; কিন্তু জাঊরার সাথে খেলার সময় মাথায় রেখো - তুমি যাতে বড় জাউরার মত করে খেলতে পারো ; নইলে তুমি হেরে যাবে"। "প্লে লাইক অ্যা বিগার বাস্টার্ড উইথ এ বাস্টার্ড!"
তাই বুনো ওলের বিপরীতে কখনো কখনো কিংবা সবসময়ই বাঘা তেঁতুলের দরকার হয়। মাহমুদুর রহমানও জাউরা বুনো ওলের বিপরীতে অধিকতর জাউরা বাঘা তেঁতুল! আর তাই সরকার, সরকারপন্থী, বাঘা তেঁতুলের টকে মুখের রুচি নষ্ট হওয়া মানুষ, দলীয় সংকির্নতায় বিরক্ত হওয়া এবং আমার দেশের দলীয় সংকির্নতায় বিরক্ত হওয়া মানুষগুলোর বিরাগ ভাজন হয়েছে মাহমুদুর রহমান ও দৈনিক আমার দেশ। এবং অনেক দেরিতে হলেও ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্নু সরকার মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে, এবং আমার দেশের প্রেস সিলগালা করে দিয়েছে ফলে অবধারিতভাবে বন্ধ হয়ে গেছে আমার দেশ।

কিন্তু আমি অবাক হয়েছি, মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করতে ভিন্নমত দমনে আগ্রাসি সরকার এতো সময় নিলো কেন? সরকারের আচরন পর্যালোচনা করলে এ গ্রেফতার আরো আগেই হওয়ার কথা ছিলো.....

এ কথা সত্যি যে, মাহমুদুর রহমান গ্রেফতারের উর্ধে কেউ নন। সে যদি অপরাধ করে থাকে তো গ্রেফতার অস্বাভাবিক কিছু নয়। এখন দেখার বিষয় মাহমুদুর রহমানের অপরাধ গুলো কি কি....
অপরাধ এক-ব্লগারদের লেখা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনভূতিতে আঘাত।
অপরাধ দুই-বিচারপতির স্কাইপি কথোপকথন প্রকাশ।
অপরাধ তিন-আদালত, সরকার, টাইব্যুনালসহ নানা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লেখালেখি।
অপরাধ চার- কাবা শরীফের গিলাফ পরিবর্তন নিয়ে যে মিথ্যাচার।
ইত্যাদি ইত্যাদি....................

এ গ্রেফতারে প্রসংগে সরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যও উল্লেখযোগ্য- “আমরা বাধ্য না হলে কাউকে গ্রেফতার করি না। আর মাহমুদুর রহমানকে আগের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা তাকে গ্রেফতার করতে চাইনি, কিন্তু তিনি আমাদের বাধ্য করেছেন।”

লক্ষ্যণীয়, মাহমুদুর রহমান তার নিজেকেই গ্রেফতার করতে সরকারকে বাধ্য করেছেন। অথচ যে অভিযোগ গুলোয় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সবই পুরোনো!!! তা হলে তিনি কি করে বাধ্য করলেন???
এ প্রশ্নটাই সম্ভবত এ গ্রেফতারের বড় টুইস্ট! গ্রেফতারের দিন (১১ই এপ্রিল'১৩) "আমাদের দেশ" এর শিরোনাম- "উইকিলিকসে শেখ মুজিবের শাসনকাল"।


যে সময় নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগা আওয়ামীলীগ সরকার যে পুরানো ধর্ম অবমাননায় ব্লাসফেমি তে না গিয়ে, উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তথ্য নিয়ে আজকের আমার দেশে প্রকাশ হওয়া আওয়ামী অবমাননায় ব্লাসফেমিতে বাধ্য হবেন এটাই স্বাভাবিক।

আমি আশা করছি, মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার মাধ্যমে হীনমন্যতায় ভোগা এ আহত আওয়ামী অনুভূতি আবার চাঙ্গা হবে, এবং আমার দেশ বন্ধ করার মাধ্যমে তা পূর্নতা পাবে।

অভিনন্দন সরকারকে- তাদের জাউরা খেলার অতি জাউরা এক প্রতিপক্ষ কমাতে পারার জন্য। কিন্তু আশংকার কথা হলো- মূল আশংকার কথা গুলো রয়েছে বন্ধ করার দিনে আমার দেশে ধারাবাহিক ছাপানোর ঘোষনা দেয়া উইকিলিকসে! কি রয়েছে সে ই উইকিলিকসে?
১৬ আগস্ট'৭৫ বঙ্গবন্ধু হত্যার পরের দিন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে পাঠানো এক তারবার্তায় ডেভিস বোস্টার উল্লেখ করেন, "নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হলো, যা সর্বোপরি মুজিব এবং বাঙালি জাতির মধ্যকার বিচ্ছিন্নতাকে নির্দেশ করে। বাঙালি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো পরিপূর্ণ করতে ব্যর্থ, নিজেকে রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলার উদ্দেশ্য, রাজনীতি এবং ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখার স্বচ্ছ উচ্চাভিলাষই তার ও বাঙালি জাতির মধ্যকার বিচ্ছিন্নতার মূল কারণ। এভাবেই মুজিব তার পরামর্শকারীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।"

জন বিচ্ছিন্নতার পরিনাম ভয়াবহ হয়, দুই এক জন ভিন্ন মতাদর্শী গ্রেফতার করে চক্ষু মোদা যায় কিন্তু প্রলয় বন্ধ করা যায় না।