বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৩

মুহূর্তের মন্তব্যমালা

রং বিহীন সরকার আর বিরোধী দলের ফ্রাই কার্ড!!
রাজনীতির মাঠের দক্ষ খেলোয়ার বিবেচিত আওয়ামীলীগ, বিরোধী দল আর বিরোধী মত দমনে ৫২ কার্ডের ৫৩ ফর্মূলা প্রয়োগ করে ফেলেছে! সাথে সাথে সুশাসন, দক্ষতা আর কৌশলের সকল রং শেষ করে ফেলেছে......
সর্বশেষ রং, গনজাগরনের শক্তিকে ট্রামকার্ড বানালেও নাস্তিকতার ওভারট্রামে ধরা খেয়েছে!!!
মাঠে আর রং নাই, বিরোধী পক্ষ এখন শুধুই ফ্রাই খেলবে-
পদ্মা সেতু দূর্নীতি- ফ্রাই
হলমার্ক কেলেংকারি- ফ্রাই
কুইক রেন্টাল দূর্নীতি- ফ্রাই
শেয়ার বাজার কেলেংকারী- ফ্রাই
পুলিশের গুলিতে গনহত্যা- ফ্রাই
কালো বিড়াল দূর্নীতি- ফ্রাই
ইত্যাদি, ইত্যাদি- ফ্রাই
বিরোধী দলের এমন শক্তিশালি ফ্রাই কার্ডের পাশাপাশি ২-১ টা হরতন কিংবা রুইতনে ২, ৩ এর ওপরও যে সরকারকে ২-১ টা টেক্কা অসহায়ের মতো পাশাতে হবে এটাই স্বাভাবিক!
আর তাইতো, তারুন্যের শক্তিকে ব্যবহারের বাসনায় পুলিশি নিরাপত্তা, বিরিয়ানির প্যাকেট, পানি, টয়লেটের সুব্যাবস্থায় বেড়ে তোলা "গনজাগরন মঞ্চ" বন্ধ করার পথ খুঁজতে হচ্ছে! বড় পিরিতের বড় দুর্গতিতে, ব্লগারদের গ্রেফতার করে হেফাজতে ইসলামের মান রক্ষার চেষ্টা চলছে.....

উপায় নাই গোলাম হোসেন! শাসন ক্ষমতা ৩ কার্ডের জুয়া না! ৫ বছরের সমর্থনের পাঁচ দশ দুই ৫২ কার্ডের হিসাবের খেলা! অপরিনত রাজনীতির বেহিসাবী রং খরচের মাশুল সরকারকে গুনতেই হবে........সামান্যতম ফ্রাইয়ের বিপরিতে মূল্যবান অনার্স পাশাতেই হবে। আর এ খেলার সর্বশেষ ট্রাজিক পরিনতি সম্ভবত এটাই হবে যে- হাতে রাখা তত্তাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের টেক্কা রং বিহিন অসহায় সরকারকে নিরুপায় হয়েই জলান্জলী দিতে হবে। কারন, খেলার মাঠের নিয়ন্ত্রন এবং জনগন কোনটিই আর সরকারের নিয়ন্ত্রনে নেই!!!


পাগলের বর্নমালা!!!
জামাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লেনদেন মূলত জামায়াতের পৃষ্টপোষকতা! কারন এতে আর্থিকভাবে জামায়াত লাভবান হয়, শক্তিশালি হয়.....

এ কথা যদি যদি আমি বিশ্বাস করি- তো আমাকে এমন লেনদেন বন্ধ করতে হবে। এ চিন্তা যদি আমি সমর্থন করি তো আমাকে বলতেই হবে-
মৌলবাদকে সমর্থন দেয়া, মৌলবাদকে শক্তিশালি করার যে কোন প্রচেষ্টা, মৌলবাদের পৃষ্টপোষকতার নামান্তর।
এখন প্রশ্ন হলো- ভোটের রাজনীতির হিসাব নিকাসে, ৮৫% মুসলিম অধ্যাসিত ভোটারের অনুভুতি বিকাশে আওয়ামীলীগ সরকার যে হেফাজতে ইসলামের হেফাজত আর খেদমত করে যাচ্ছে তা কি মৌলবাদকে শক্তিশালি করছে না? মৌলবাদকে শক্তিশালি করার এ প্রচেষ্টা কি মৌলবাদের পৃষ্টপোষকতা নয়?

আমার দুঃখ হয়- গনজাগরন মঞ্চ প্রশ্নবিহীন অনুগত্যে টিভি ক্যামেরার সামনে পড়ে আছে গনজাগরনের মিডিয়া সেন্টারে! ক্লান্ত হয়ে পড়েছে লাকি আক্তার! হুমায়ুন আহমেদের "তুই রাজাকার" বলা তোতা পাখি এখন স্যারের সর্বশেষ বইয়ের রয়্যালিটির হিসাব নিয়ে ব্যাস্ত! আর যেভাবে ব্লগ ব্লক আর ব্লগারদের গ্রেফতার শুরু হয়েছে, সেখানে তোতা পাখিও বোঝে শাষকের চোখের ভাষা.....
এখন শুধু হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারসনের রুপকথার সেই পাগল দরকার, যে চোখের মাথা খেয়ে নিজেকে সৎ প্রমানে নিয়োজিত না হয়ে বলতে পারবে- রাজা ন্যাংটা!!!
যে পাগল উদ্যাম তারুন্যের মাঝে শেখাবে নতুন বর্নমালা-
ব তে বিএনপি-
তুই মৌলবাদের দোসর, তুই মৌলবাদী.....
আ তে আওয়ামীলীগ-
তুই মৌলবাদের পৃষ্টপোষক, তুই মৌলবাদী....

রসুনময় রাজনীতি!!
রাজনীতির এ রুপ দেখে দেখে আমি ক্লান্ত!
সরকার না হয় হেফাজতে ইসলামের হেফাজত আর খেদমতে নিয়োজিত হয়েছে...নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারো মাথায় কালো পট্টি আর হাতে তসবি নেয়ার পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে...
কিন্তু সরকারের হেফাজতদারী আর খেদমতদারীর আড়ালে যে বাক আর ব্যাক্তি স্বাধীনতায় আঘাত আসলো তাতে বিরোধীদলের অবস্থান কি?
ওহহ..সরি..সরি...এদের মাথায়তো আগেই পট্টি বাঁধা! আর ওরা তো নাস্তিক! ওরাই বাংলাদেশের একমাত্র সমস্যা!
বাক স্বাধীনতার হেফাজতে না হোক, আবেগীয় রাজনীতির হেফাজতে এখন নিরব থাকায় শ্রেয়! নিরবতা যে হিরনময়..
আসলেই, রাজনৈতিক মাফিয়াদের রাজনীতি রসুনময়...
আলাদা কোয়া, তবে এক গোয়া!!

বিটিআরসির গুন্ডামি আর সরকারের ভন্ডামি!!!
বিটিআরসির গুন্ডামি আর সরকারের ভন্ডামিতে শেষ পর্যন্ত আমার ব্লগ বাংলাদেশে ব্লক করা হয়েছে!!
নিয়ন্ত্রনের নামে এ গুন্ডামি, এ ভন্ডামির অর্থ কি???
এর সাথে যোগসাজস রেখেই কি- তিন স্বনামধোন্য ব্লগারকে(সুব্রত শুভ, রাসেল পারভেজ, মশিউর রহমান বিপ্লব) ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছে!

হঠাৎ করে এমন ঘটনার ব্যাখ্যা কি?
লক্ষ্যনীয়, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে গনজাগরন মঞ্চ বন্ধ করার মত, আমার ব্লগ বন্ধ, ব্লগারদের গ্রেফতার পাশাপাশি ঘটছে। ইসলামি দলগুলোর ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ যত এগিয়ে আসছে সরকার ততই নিজেদের বড় আস্তিক এবং নাস্তিক ব্লগারদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নাই প্রমানে মরিয়া হয়ে উঠছে......

ধানাইপানাই বাদ দেন- ভোটের রাজনীতির সহানুভুতির জন্য ধার্মিক হতে চাইলে হন, প্রয়োজনে আবার মুসলমানি করিয়ে, আকিকা দিয়ে আওয়ামি মুসলিম লীগে ফেরত যান। কোনো সমস্যা নাই............
কিন্তু হুজুরদের খুশি করার জন্য, ব্লগ এবং ব্লগারদের সাথে পিরিত নাই দেখানোর জন্য- স্বৈরাচার হয়ে উঠবেন না। আগুনে হাত দেবেন না। বাকস্বাধিনতার এ আগুনকে নেভানোর চেষ্টা করবেন না।
এ আগুনে হাত দিলে, হাত পুড়ে যাবে...
এ আগুন নেভাতে চাইলে, দ্বিগুন হয়ে জ্বলবে....
এখনও সময় আছে ব্লগ এবং ব্লগারদের ভোগান্তি বন্ধ করুন, আগুন থেকে হাত সরিয়ে নিন...

রহস্যময় স্প্রিপ্ট!!!
চিনির মতোই স্ক্রিপ্ট বড়ওও রহস্যময়!!!
দুদিন আগেও গনজাগরন মঞ্চের যে স্ক্রিপ্ট ছিলো দিত্বীয় মুক্তিযুদ্ধের ইশতেহার, আজ সে বক্তব্যের স্কিপ্ট স্পর্ধা!!!
এখানেই রয়েছে চিন্তাশীলের জন্য নিদর্শন....
শেখ হাসিনা বলেছেন-"'সরকারের স্পর্ধা নিয়ে প্রশ্ন তোলার স্পর্ধা গণজাগরণ মঞ্চ পায় কোথায়? তাদের বক্তৃতার ড্রাফট কে লেখে, তার খোঁজ লাগান?'
এ কি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে?? যার মন ছুটে যায় শাহবাগে এ কথা বলে সে আজ কোন দুঃখে???


দি নিউ সুশিল বাংলা সার্কাস!!
রাজনীতির পাশাপাশি সুশিলতাও এখন আজব সার্কাস!!!
"দি আওয়ামী সার্কাস"......"জাতীয়তাবাদি সার্কাস".....রাজনৈতিক ভারদের সমন্বয়ে এমন রাজনৈতিক সার্কাসে পর আমরা দেখছি "দি নিউ সুশিল বাংলা সার্কাস"!!
যে সুশিলেরা হরতালের ক্ষতিকর প্রভাবের "১০০১টি কারন সাথে ১ টি ফাউ" টাইপের আলোচনায় কান ঝালাপালা করেন, হরতালের বিকল্প খোঁজার পরামর্শ দেন! অথচ তারাই ছুটির দিনে লংমার্চের মতো কর্মসূচির বিপক্ষে হরতাল ডাকেন.....আজব......
সার্কাস চলছে, সার্কাস চলবে...
কবি আর সুশিলেরা মিলিবে, মিলাবে..
বাচ্চা লোক তালিয়া বাজাও.....

যখন কেউ হরতাল ডাকলো....কবি বললেন- হরতাল ধ্বংসাত্বক, বিকল্প খুঁজুন....সুশিলেরা সমর্থন করলো!!
যখন কেউ লংমার্চ ডাকলো...সুশিলেরাই প্রতিবাদে হরতাল ডেকে বসলো, কবিরাও নিরব হয়ে গেল।

দেশের চলমান সার্কাসে, সুশিলেরা এমনই ভাঁড়! আর কবি এখানেই নিরব!!

সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৩

রাজনীতির খেলা সমগ্র!


ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি- দাবা খেলা নাকি রাজ-রাজাদের খেলা। যে খেলায় আছে রাজা, আছে মন্ত্রী, আছে হাতিশালায় হাতি, ঘোড়াশালায় ঘোড়া, আছে রাজ-রাজাদের নিরাপত্তার ঘুটি উলুখাগরা প্রজা!
এক সময় ভাবতাম, দাবা খেলাই রাজনীতি! প্রজার ক্ষমতা আর অর্জন যেখানে সীমাবদ্ধ! শুধু মাত্র এক কোট, সামনে কিম্বা কচে! ক্ষমতাবানের মতো যাদের পেছনে ফেরার অবকাশ নেই। এটাই হয়তো জনসাধারনের নিয়ত এবং নিয়তি! যারা শুধু সামনেই এগোতে জানে, বিপদে বুক চেতিয়ে দাড়াতে জানে, ক্ষমতাবানের মতো বিপদ দেখে পিছু হাটতে জানে না। এক কোর্টের ক্ষমতাই যাদের বড় অর্জন যখন ৫ বছর পর পর ব্যালটের কোর্টে ছাপ মেরে দেয়......
দাবার সাথে রাজনীতির আরেকটি সাদৃশ্য হলো- রাজার ক্ষমতায়! সর্বক্ষমতাময়ের ক্ষমতা যখন শুধুই এককোর্ট! রাজারা যেখানে শুধুই ইয়েস উদ্দিন কিংবা জি হুজুর রহমান!
বৈশাদৃশ্য যে নেই তা না! বরং রাজনীতি অনেকটা সিনেমার মতো- ক্রাইসিস আর ক্লাইমেক্সে ভরপুর! এখানে রানী আছে রাজকন্যাও আছে। এখানে ভিলেনের গুলিতে নিহত হয় আদর্শ বাবা কিংবা ন্যায়পরায়ন স্বামী! দাবায় আর যাই হোক রানী নেই, রাজকন্যা তো নেই ই.........
সে দিক থেকে বরং রাজনীতির সাথে মিল আছে কার্ড খেলার! যেখানে রাজা আছে, রানী আছে, রাজকন্যা না থাকুক অন্তত যুবরাজ আছে.....
ক্রাইসিস, ক্লাইমেক্স

মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

মা হতে চায় ব্যঙ্গমী!


সংসদ ভবনের যে পাশটায় খেজুর বাগান! যার একপাশে খামারবাড়ী, অন্যপাশে চন্দ্রিমা উদ্যান……সেখানেই নীড় গড়ে তুলছে পরিব্রাজক ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমী।
যদিও নীড়ের জন্য তাদের প্রথম পছন্দ ছিলো চন্দ্রিমা উদ্যান! লুই কানের নকশা অনুযায়ি যে জায়গাটি পাখির চোখে চাঁদের মতো লাগে। কল্পনারাজ্য রুপকথার পাখি জুটির কাছে এ স্থানটা যেন কল্পনার নীড়!
কিন্তু চাঁদের যেমন কলংক আছে! রাজনৈতিক হীনমন্যতায়, কলংক চন্দ্রিমা উদ্যানেরও রয়েছে! উদ্যানের বাতিগুলো অধিকাংশই নষ্ট, বাতির সাথে দেশাত্ববোধক মিউজিক সিস্টেম ছিলো তা নষ্ট। লেকের পানি নোংরা এবং এর ওপরের সুদৃশ্য ব্রীজের দু’পাশের ফোয়ারা আর চলে না! সন্ধ্যার পর যেখানে সেখানে মুত্রত্যাগ, ভাম্যমান বনিতাদের ঘোরাফেরা, গন্জিকা সেবনকারীদের নিরাপদ সেবন স্থান সহ অব্যবস্থাপনার সাক্ষী হয়ে ঝুলে আছে সংযোগবিহীন সিসিটিভি ক্যামেরা!
ব্যঙ্গমী ভাবছিলো, যেখানে রয়েছে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং এ দেশের সফল একজন রাষ্ট্রনায়কের কবর, যার একপাশে সংসদ ভবন আর অন্য পাশে মসজিদ একই সরলরেখায় রয়েছে। রাজনৈতিক কারনে এর চেহারার জীর্ণতা মেনে নেয়া যায় কিন্তু কামবিলাস কখনোই নয়!!!
এখানকার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রক্ষীরা কি করছে?
আর সাধারন মানুষের(কেউ কেউ) সেন্সটাও কত নিচে নেমে গেছে! একটি কবর আর মসজিদ পাশে রেখেই যারা টাকায় কিনছে বক্ষবন্ধনীর নিচে হাত দেবার অধিকার কিংবা কাঁপিয়ে চলছে, ঝোঁপঝাড়!!
এসব দেখে ব্যঙ্গমী বিরক্ত হয়। কিছু বিকৃত মনের মানুষ আছে যারা ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে কিংবা ভিডিওতে পশু-পাখির কামলীলা দেখে মজা পান! আর তাই ইউটিউভে এ সকল সাইট গুলোতে হিটও হয় প্রচুর। কিন্তু পশু-পাখিরা, মানবিক না হলেও এতটা বিকৃত মানষিকতা তাদের নেই। দো’পেয়ে মানুষের কামলীলা তাদের কাছে প্রকৃতির চাহিদা, চোখের উপভোগ্য ক্ষুধা নয়! আর তাই বিরক্ত ব্যঙ্গমী চন্দ্রিমা উদ্যান ছেড়ে নীড় গড়ছে খেজুর বাগানে, যেখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায় স্থপতি লুই কানের অপূর্ব ও অমর স্থাপনা “জাতীয় সংসদ ভবন”।
পাখিদের মধ্যে অবশ্য এমন কোনো প্রফেশনাল স্থপতি নেই। প্রকৃতিগত ভাবেই তারা সবাই নীড় গড়ার নিপুন কারিগর এবং অসাধারন স্থপতি। ব্যঙ্গমী জানে, তার পতিও অসাধারন স্থপতি…তাদের জন্য গড়ে তুলবে অনন্য এক নীড়, যেখানেই চলবে তাদের সুখ-দুঃখের খুনসুটি…।
ব্যঙ্গমীর মনটা সে নীড়ের ভাবনায় স্বপ্নকাতর হয়। নীড়ের অপূর্নতা আর ব্যঙ্গমার অসহায়তায় বুকটা খাঁ খাঁ করে!!!
ব্যঙ্গমী জানে- মানুষই হোক কিংবা পাখি, ঘরই হোক কিংবা নীড়, তার পরিপূর্নতা আসে সন্তানে….।
ব্যঙ্গমী ভাবছিলো-অধিকাংশ রুপকথা শুরুর কমন অনুচ্ছেদ-
অনেক অনেক দিন আগের কথা, এক দেশে ছিলো এক রাজা। রাজার ছিলো হাতিশালায় হাতি, ঘোড়াশালায় ঘোড়া। কিন্তু রাজার মনে এবং রাজ্যে শান্তি ছিলো না! রাজা ছিলো আটকুড়ে…..।
রুপকথার রানী এ পাখিটি চায় না, আটকুড়ের অসহায়তা ও অশান্তি তার ব্যঙ্গমা রাজাকে স্পর্শ করুক…।
হঠাৎ মা হবার তীব্র আকাংখা জাগে ব্যঙ্গমীর। মাতৃত্বের ফ্যান্টাসিতে ইচ্ছা জাগে, এই মুহুর্তে একটি টকটকে লাল মরিচ খেতে! মাতৃত্বের এ চিরন্তন ফ্যান্টাসিতে আক্রান্ত হয় মানুষ্যকুলও! তখন নারীরা খায় আচার কিংবা টক জাতীয় কিছু….।
কিন্তু বাংলাদেশে এই মুহুর্তে, ব্যঙ্গমীর মাতৃত্বকে চমৎকৃত করা টকটকে লাল মরিচ পাওয়া সম্ভব নয়!!! কারন লাল মরিচ এখন আর চমৎকারে নয় বরং বলাৎকারে ব্যবহার হচ্ছে! সাম্প্রতিক সময়ে রাজপথের আন্দোলন দমনের জন্য পুলিশের তৃনে যোগ হয়েছে নতুন অস্ত্র-”মরিচের গুড়া স্প্রে”! যেটি ব্যবহার হচ্ছে- বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করা অসহায় শিক্ষকদের চোখে, জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ করা বামদের মুখে! ব্যবহার হচ্ছে, এ সকল ছবি তুলতে যাওয়া সাংবাদিকদের ক্যামেরার লেন্সে এবং অতি অবশ্যই সরকার বিরোধীদের মিছিল, সমাবেশ, হরতালে। আর তাই লাল মরিচ এখন দুষ্পাপ্য, সব চলে গেছে পিপার স্প্রে তৈরির কারখানায়!
ব্যঙ্গমী ভাবছিলো- চমৎকার করা লাল মরিচের বলাৎকারের মতো, তার সামনে থাকা লুই কানের গনতন্ত্রকে চমৎকৃত করা এ ভবন কি নির্মম পরিহাসেই না, রাজপথে গনতন্ত্রকে বলাৎকার করছে!
হঠাৎ ব্যঙ্গমী আবিষ্কার করে- তাদের নীড় আর সংসদ ভবন, এ দুই স্থাপনার অপূর্ব এক সাদৃশ্য! এ দুটাই কল্পনায় প্রাগন্যান্ট করে দেয়!
নীড়ের স্বপ্নে মা হতে চায় ব্যঙ্গমী। আর সংসদের স্বপ্নে আবারো মা হতে চায় খালেদা জিয়া! আবারো মা হতে চায় শেখ হাসিনা!
ব্যঙ্গমী ভাবে- ক্ষমতাও এক প্রকার মাতৃত্ব, যেখানে পুরা জাতির মা হতে হয়। আর তাই আবারো ক্ষমতায় যাবার আকাংক্ষা আর মাতৃত্বের আকাংখার মধ্যে খুব একটা তফাৎ নেই নিশ্চই। এ আকাংখা দোষেরও নয় নিশ্চই। কিন্তু দোষটা তখন হয় যখন মাতৃত্ব কিংবা ক্ষমতার এ পবিত্র আকাংখা বহুগামিতায় গড়ায়!
জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস। পতি, পরমেশ্বর।
কিন্তু ক্ষমতা আকাংখার বহুগামিতাতেই, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে এদেশে হস্তক্ষেপ করার আহবানে আর্টিকল প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া! মুক্তিযোদ্ধার হাতে গড়া দল ক্ষমতাকাংখায় সঙ্গ নেয় রাজাকারের!
এমন আকাংখার বহুগামিতাতেই, জনগনের ওপর আস্থা হারানো শেখ হাসিনা ক্ষমতা হাতে রেখেই নির্বাচন করার বন্দোবস্থ করেন! মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী, গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রামকারী দল ক্ষমতাকাংখায় সঙ্গ নিয়েছিলো(১৯৯৬) রাজাকারের! সঙ্গ নিচ্ছে স্বৈরাচারের!
দীর্ঘকাল গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করা জাতির জন্য এ এক নিষ্ঠুর নিয়তি! গনতন্ত্রের স্বপ্নে গড়া দৃষ্টিনন্দন সংসদ ভবনের সৌন্দর্য্যের জন্য এ নির্মম পরিহাস!
ব্যঙ্গমী উপলব্ধি করে- স্থাপনা শুধুই স্থাপনা! নীড়ই হোক কিংবা সংসদ ভবন। এর সৌন্দর্য্য মনোমুগ্ধকর হতে পারে কিন্তু দিনশেষে এটি শুধুই ইট,কাঠ আর খড়কুটোর বুনন, নিপুন তবে প্রানহীন। যেখানে প্রান প্রতিষ্ঠা করাই স্বার্থক সৌন্দর্য্য।
যে স্বার্থক সৌন্দর্য্যর টানেই, অপূর্ব নীড় গড়ে তোলা ব্যঙ্গমার দিকে এগিয়ে যায় ব্যঙ্গমী। ঠোঁটে ঠোঁট ঠুকড়ে প্রান খুঁজে ফেরে…যে প্রানের স্পন্দনেই জীবন্ত হয়ে উঠবে তাদের নীড়! নিজের বুকে-পেটে ব্যঙ্গমার উষ্নতা অনুভব করে ব্যঙ্গমী। সুখানুভুতির সাথে সে উষ্নতা সঞ্চিত করে ব্যঙ্গমী, আসছে বসন্তে দেয়া ডিমের তায়ের জন্য…।