সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৩

রাজনীতির খেলা সমগ্র!


ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি- দাবা খেলা নাকি রাজ-রাজাদের খেলা। যে খেলায় আছে রাজা, আছে মন্ত্রী, আছে হাতিশালায় হাতি, ঘোড়াশালায় ঘোড়া, আছে রাজ-রাজাদের নিরাপত্তার ঘুটি উলুখাগরা প্রজা!
এক সময় ভাবতাম, দাবা খেলাই রাজনীতি! প্রজার ক্ষমতা আর অর্জন যেখানে সীমাবদ্ধ! শুধু মাত্র এক কোট, সামনে কিম্বা কচে! ক্ষমতাবানের মতো যাদের পেছনে ফেরার অবকাশ নেই। এটাই হয়তো জনসাধারনের নিয়ত এবং নিয়তি! যারা শুধু সামনেই এগোতে জানে, বিপদে বুক চেতিয়ে দাড়াতে জানে, ক্ষমতাবানের মতো বিপদ দেখে পিছু হাটতে জানে না। এক কোর্টের ক্ষমতাই যাদের বড় অর্জন যখন ৫ বছর পর পর ব্যালটের কোর্টে ছাপ মেরে দেয়......
দাবার সাথে রাজনীতির আরেকটি সাদৃশ্য হলো- রাজার ক্ষমতায়! সর্বক্ষমতাময়ের ক্ষমতা যখন শুধুই এককোর্ট! রাজারা যেখানে শুধুই ইয়েস উদ্দিন কিংবা জি হুজুর রহমান!
বৈশাদৃশ্য যে নেই তা না! বরং রাজনীতি অনেকটা সিনেমার মতো- ক্রাইসিস আর ক্লাইমেক্সে ভরপুর! এখানে রানী আছে রাজকন্যাও আছে। এখানে ভিলেনের গুলিতে নিহত হয় আদর্শ বাবা কিংবা ন্যায়পরায়ন স্বামী! দাবায় আর যাই হোক রানী নেই, রাজকন্যা তো নেই ই.........
সে দিক থেকে বরং রাজনীতির সাথে মিল আছে কার্ড খেলার! যেখানে রাজা আছে, রানী আছে, রাজকন্যা না থাকুক অন্তত যুবরাজ আছে.....
ক্রাইসিস, ক্লাইমেক্স

মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

মা হতে চায় ব্যঙ্গমী!


সংসদ ভবনের যে পাশটায় খেজুর বাগান! যার একপাশে খামারবাড়ী, অন্যপাশে চন্দ্রিমা উদ্যান……সেখানেই নীড় গড়ে তুলছে পরিব্রাজক ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমী।
যদিও নীড়ের জন্য তাদের প্রথম পছন্দ ছিলো চন্দ্রিমা উদ্যান! লুই কানের নকশা অনুযায়ি যে জায়গাটি পাখির চোখে চাঁদের মতো লাগে। কল্পনারাজ্য রুপকথার পাখি জুটির কাছে এ স্থানটা যেন কল্পনার নীড়!
কিন্তু চাঁদের যেমন কলংক আছে! রাজনৈতিক হীনমন্যতায়, কলংক চন্দ্রিমা উদ্যানেরও রয়েছে! উদ্যানের বাতিগুলো অধিকাংশই নষ্ট, বাতির সাথে দেশাত্ববোধক মিউজিক সিস্টেম ছিলো তা নষ্ট। লেকের পানি নোংরা এবং এর ওপরের সুদৃশ্য ব্রীজের দু’পাশের ফোয়ারা আর চলে না! সন্ধ্যার পর যেখানে সেখানে মুত্রত্যাগ, ভাম্যমান বনিতাদের ঘোরাফেরা, গন্জিকা সেবনকারীদের নিরাপদ সেবন স্থান সহ অব্যবস্থাপনার সাক্ষী হয়ে ঝুলে আছে সংযোগবিহীন সিসিটিভি ক্যামেরা!
ব্যঙ্গমী ভাবছিলো, যেখানে রয়েছে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং এ দেশের সফল একজন রাষ্ট্রনায়কের কবর, যার একপাশে সংসদ ভবন আর অন্য পাশে মসজিদ একই সরলরেখায় রয়েছে। রাজনৈতিক কারনে এর চেহারার জীর্ণতা মেনে নেয়া যায় কিন্তু কামবিলাস কখনোই নয়!!!
এখানকার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রক্ষীরা কি করছে?
আর সাধারন মানুষের(কেউ কেউ) সেন্সটাও কত নিচে নেমে গেছে! একটি কবর আর মসজিদ পাশে রেখেই যারা টাকায় কিনছে বক্ষবন্ধনীর নিচে হাত দেবার অধিকার কিংবা কাঁপিয়ে চলছে, ঝোঁপঝাড়!!
এসব দেখে ব্যঙ্গমী বিরক্ত হয়। কিছু বিকৃত মনের মানুষ আছে যারা ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে কিংবা ভিডিওতে পশু-পাখির কামলীলা দেখে মজা পান! আর তাই ইউটিউভে এ সকল সাইট গুলোতে হিটও হয় প্রচুর। কিন্তু পশু-পাখিরা, মানবিক না হলেও এতটা বিকৃত মানষিকতা তাদের নেই। দো’পেয়ে মানুষের কামলীলা তাদের কাছে প্রকৃতির চাহিদা, চোখের উপভোগ্য ক্ষুধা নয়! আর তাই বিরক্ত ব্যঙ্গমী চন্দ্রিমা উদ্যান ছেড়ে নীড় গড়ছে খেজুর বাগানে, যেখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায় স্থপতি লুই কানের অপূর্ব ও অমর স্থাপনা “জাতীয় সংসদ ভবন”।
পাখিদের মধ্যে অবশ্য এমন কোনো প্রফেশনাল স্থপতি নেই। প্রকৃতিগত ভাবেই তারা সবাই নীড় গড়ার নিপুন কারিগর এবং অসাধারন স্থপতি। ব্যঙ্গমী জানে, তার পতিও অসাধারন স্থপতি…তাদের জন্য গড়ে তুলবে অনন্য এক নীড়, যেখানেই চলবে তাদের সুখ-দুঃখের খুনসুটি…।
ব্যঙ্গমীর মনটা সে নীড়ের ভাবনায় স্বপ্নকাতর হয়। নীড়ের অপূর্নতা আর ব্যঙ্গমার অসহায়তায় বুকটা খাঁ খাঁ করে!!!
ব্যঙ্গমী জানে- মানুষই হোক কিংবা পাখি, ঘরই হোক কিংবা নীড়, তার পরিপূর্নতা আসে সন্তানে….।
ব্যঙ্গমী ভাবছিলো-অধিকাংশ রুপকথা শুরুর কমন অনুচ্ছেদ-
অনেক অনেক দিন আগের কথা, এক দেশে ছিলো এক রাজা। রাজার ছিলো হাতিশালায় হাতি, ঘোড়াশালায় ঘোড়া। কিন্তু রাজার মনে এবং রাজ্যে শান্তি ছিলো না! রাজা ছিলো আটকুড়ে…..।
রুপকথার রানী এ পাখিটি চায় না, আটকুড়ের অসহায়তা ও অশান্তি তার ব্যঙ্গমা রাজাকে স্পর্শ করুক…।
হঠাৎ মা হবার তীব্র আকাংখা জাগে ব্যঙ্গমীর। মাতৃত্বের ফ্যান্টাসিতে ইচ্ছা জাগে, এই মুহুর্তে একটি টকটকে লাল মরিচ খেতে! মাতৃত্বের এ চিরন্তন ফ্যান্টাসিতে আক্রান্ত হয় মানুষ্যকুলও! তখন নারীরা খায় আচার কিংবা টক জাতীয় কিছু….।
কিন্তু বাংলাদেশে এই মুহুর্তে, ব্যঙ্গমীর মাতৃত্বকে চমৎকৃত করা টকটকে লাল মরিচ পাওয়া সম্ভব নয়!!! কারন লাল মরিচ এখন আর চমৎকারে নয় বরং বলাৎকারে ব্যবহার হচ্ছে! সাম্প্রতিক সময়ে রাজপথের আন্দোলন দমনের জন্য পুলিশের তৃনে যোগ হয়েছে নতুন অস্ত্র-”মরিচের গুড়া স্প্রে”! যেটি ব্যবহার হচ্ছে- বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করা অসহায় শিক্ষকদের চোখে, জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ করা বামদের মুখে! ব্যবহার হচ্ছে, এ সকল ছবি তুলতে যাওয়া সাংবাদিকদের ক্যামেরার লেন্সে এবং অতি অবশ্যই সরকার বিরোধীদের মিছিল, সমাবেশ, হরতালে। আর তাই লাল মরিচ এখন দুষ্পাপ্য, সব চলে গেছে পিপার স্প্রে তৈরির কারখানায়!
ব্যঙ্গমী ভাবছিলো- চমৎকার করা লাল মরিচের বলাৎকারের মতো, তার সামনে থাকা লুই কানের গনতন্ত্রকে চমৎকৃত করা এ ভবন কি নির্মম পরিহাসেই না, রাজপথে গনতন্ত্রকে বলাৎকার করছে!
হঠাৎ ব্যঙ্গমী আবিষ্কার করে- তাদের নীড় আর সংসদ ভবন, এ দুই স্থাপনার অপূর্ব এক সাদৃশ্য! এ দুটাই কল্পনায় প্রাগন্যান্ট করে দেয়!
নীড়ের স্বপ্নে মা হতে চায় ব্যঙ্গমী। আর সংসদের স্বপ্নে আবারো মা হতে চায় খালেদা জিয়া! আবারো মা হতে চায় শেখ হাসিনা!
ব্যঙ্গমী ভাবে- ক্ষমতাও এক প্রকার মাতৃত্ব, যেখানে পুরা জাতির মা হতে হয়। আর তাই আবারো ক্ষমতায় যাবার আকাংক্ষা আর মাতৃত্বের আকাংখার মধ্যে খুব একটা তফাৎ নেই নিশ্চই। এ আকাংখা দোষেরও নয় নিশ্চই। কিন্তু দোষটা তখন হয় যখন মাতৃত্ব কিংবা ক্ষমতার এ পবিত্র আকাংখা বহুগামিতায় গড়ায়!
জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস। পতি, পরমেশ্বর।
কিন্তু ক্ষমতা আকাংখার বহুগামিতাতেই, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে এদেশে হস্তক্ষেপ করার আহবানে আর্টিকল প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া! মুক্তিযোদ্ধার হাতে গড়া দল ক্ষমতাকাংখায় সঙ্গ নেয় রাজাকারের!
এমন আকাংখার বহুগামিতাতেই, জনগনের ওপর আস্থা হারানো শেখ হাসিনা ক্ষমতা হাতে রেখেই নির্বাচন করার বন্দোবস্থ করেন! মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী, গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রামকারী দল ক্ষমতাকাংখায় সঙ্গ নিয়েছিলো(১৯৯৬) রাজাকারের! সঙ্গ নিচ্ছে স্বৈরাচারের!
দীর্ঘকাল গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করা জাতির জন্য এ এক নিষ্ঠুর নিয়তি! গনতন্ত্রের স্বপ্নে গড়া দৃষ্টিনন্দন সংসদ ভবনের সৌন্দর্য্যের জন্য এ নির্মম পরিহাস!
ব্যঙ্গমী উপলব্ধি করে- স্থাপনা শুধুই স্থাপনা! নীড়ই হোক কিংবা সংসদ ভবন। এর সৌন্দর্য্য মনোমুগ্ধকর হতে পারে কিন্তু দিনশেষে এটি শুধুই ইট,কাঠ আর খড়কুটোর বুনন, নিপুন তবে প্রানহীন। যেখানে প্রান প্রতিষ্ঠা করাই স্বার্থক সৌন্দর্য্য।
যে স্বার্থক সৌন্দর্য্যর টানেই, অপূর্ব নীড় গড়ে তোলা ব্যঙ্গমার দিকে এগিয়ে যায় ব্যঙ্গমী। ঠোঁটে ঠোঁট ঠুকড়ে প্রান খুঁজে ফেরে…যে প্রানের স্পন্দনেই জীবন্ত হয়ে উঠবে তাদের নীড়! নিজের বুকে-পেটে ব্যঙ্গমার উষ্নতা অনুভব করে ব্যঙ্গমী। সুখানুভুতির সাথে সে উষ্নতা সঞ্চিত করে ব্যঙ্গমী, আসছে বসন্তে দেয়া ডিমের তায়ের জন্য…।

বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৩

পরিব্রাজক ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমী!


বাংলাদেশের শীতকাল…..।
নাতিশীতষ্ণ দেশের শীতও সহনীয়। তাইতো হিম শীতলতা থেকে বাঁচতে সদূর সাইবেরিয়া থেকে এ দেশে আসছে পরিব্রাজক পাখিরা। অতিথি পাখি নামে যারা নীড় খুঁজে ফিরছে হাওরে-বাওরে, খেতে-খামারে, কোনো বাঁশ ঝাড়ে কিম্বা গাছের ডালে…।
এ বছর শীতে বাংলাদেশে নীড় খুঁজে ফিরছে একজোড়া বিশেষ পরিব্রাজক! সাইবেরিয়া নয় বরং রুপকথা থেকে এসেছে অতিথি পাখি ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমী!
দীর্ঘ ভ্রমনের ক্লান্ত ডানা, নীড় না পাবার হতাশা আর প্রচন্ড শীতের কাঁপাকাঁপিতে তারা ভাবছিলো- এ দেশে আসা কি তাদের ভুল হয়েছে?
বাংলাদেশে এ বছর শীত তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে। ১৯৬৮ সালের পর এবারই তাপমাত্রা ৩.২ এ নেমেছে! ফুটপাত হয়ে শীত কাঁপাচ্ছে নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তের অনিরাপদ বেডরুম! পাখিদের মধ্যে অবশ্য বিত্ত ভেদ নেই, প্রচন্ড শীতে কাঁপছে সবাই…কাঁপছে দেশী পাখি, সাইবেরিয়ান পাখি কাঁপছে, কাঁপছে রুপকথার ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমীও!
ব্যঙ্গমা অবশ্য তার ক্লান্ত ডানাতেই শীত থেকে আড়াল করছিলো ব্যঙ্গমীকে। ঠোঁটে ঠোঁট ঠুকড়ে, গলার পালকের নিচে ঠোঁটের আচড় কেটে উষ্নতা খুঁজছিলো, উষ্ন করছিলো ব্যঙ্গমীকে…যে উষ্নতার মধুময়তায় পার হয়ে যাবে শীতের কষ্টকর রাত, হয়তো এ উষ্নতাতেই আসছে বসন্তে ডিম দেবে ব্যঙ্গমী। চারিদিকে ফোঁটা ফুলের মতোই রঙ্গিন হয়ে উঠবে ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমীর নীড়।
হঠাৎ অনাগত ডিম আর তা ফুটে বেড়োনো ছানার জন্য হাহাকার করে ওঠে ব্যঙ্গমার বুক! এ দেশের এক কবি হয়তো এমন হাহাকারেই লিখেছিলেন-
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে


ব্যঙ্গমা তদ্রুপ হাহাকার নিয়েই ভাবছিলো- তার ছানা কি পারবে, থাকতে পোকামাকড়ে?
যেভাবে ক্ষেতে-খামারে, ফলবতী গাছে কীটনাশক ব্যবহার শুরু হয়েছে! পোকামাকড় হীনতায় তার ছানাকে তো থাকতে হবে অনাহারে-অর্ধাহারে, বেড়ে উঠতে হবে পুষ্টিহীনতায়!
অনাগত সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষৎ’এর হতাশায় ব্যঙ্গমার গলা ধরে আসে। যে গলা দিয়ে বেড়োয় না- “ছানার জন্য এ পৃথিবী বাসযোগ্য করার অঙ্গিকার”।
বেড়োবেই বা কি করে! তাদের নিজেদের বসবাসের জন্যইতো এখনো নীড় গড়তে পারেনি!

এই প্রথম মানুষ্যকুলের প্রতি হিংসা হয় ব্যঙ্গমার! স্বীকার করে, শারিরিক দূর্বলতায় উড়তে অক্ষম মানুষ্যকুল বুদ্ধিতে বেশ টনটনা! পাখিরা হয়তো নীড় গড়তে নিপুন কিন্তু মানুষ্যকুল নিদারুন! তারা কি বিষ্ময়কর ভাবেই না, একটার ওপর আরো অনেকটা উচু উচু নীড় গড়ে তুলছে! পাখিরা যদি এমনটা পাড়তো, তবে রুপকথা থেকেই ব্যঙ্গমা এবং সাইবেরিয়া থেকে অন্যান্য পাখিরা ডেভেলপার পাখিদের কাছে নীড়ের বুকিং দিতে পারতো! ফলে এদেশে এসেই তারা রেডী নীড়ে উঠতে পাড়তো!
কিন্তু হায়!! পাখিরা নীড় গড়তে নিপুন হলেও, মেধায় মানুষের মতো অসাধারন নয়। তাই বাঁচার জন্য দীর্ঘ কষ্টকর পথ পাড়ি দিয়ে এ দেশে এসেও তাদের নীড় খোঁজা বা তৈরীর জন্য কষ্ট করতে হচ্ছে…।
ব্যঙ্গমা আক্ষেপ নিয়ে ভাবছিলো- পাখিরা কেন মানুষের মতো হয় না?
নিজো মনের এ আক্ষেপ ঘোচায় ব্যঙ্গমা স্মৃতিময় যুক্তিতে- এইতো সেদিন, যখন তারা এ দেশে আসছিলো…বাংলাদেশ তিন দিক দিয়ে ইন্ডিয়া দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় অবধারিত ভাবেই তাদের আসতে হয়েছিলো ইন্ডিয়ার ওপর দিয়েই। দিল্লি অতিক্রম করার সময় তারা দেখেছিলো- চলন্ত বাসে ধর্ষনের ঘটনা! শুধু ধর্ষনই নয়, গনঘর্ষন শেষে চলন্ত বাস থেকে ধর্ষকেরা অসহায় তরুনীকে ফেলে দেয়, পরবর্তিত মৃত্যু হয় নির্যাতিত তরুনীর!
মানব সমাজের এ অমানবিক আচরনে ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমীর মন ভারাক্লান্ত হয়, তবে দীর্ঘপথ পাড়ি দেয়ার ক্লান্তিতে মানব চরিত্রের এ অসৌন্দর্য্য তাদের মন থেকে হারিয়েও যায়…..
তাদের ভাবনায় শুধু সেই অপরুপা দেশ………যে দেশ সম্পর্কে কবি বলেছেন-

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি


বাংলাদেশের সৌন্দর্য্য তারা ছিলো মোহবিষ্ট একই সাথে কাজ করছিলো সংকোচপূর্ন অপরাধবোধ! তাদের কারনেই কি, সুন্দর দেশটি বিভিষিকায় পরিনত হবে?
যে দেশে অতিথি নারায়ন। পরিব্রাজক নারায়নের সাথে কি সে দেশে যাচ্ছে পরিব্রাজক অসুর? অতিথি পাখির আড়ালে কি আসছে অনাকাঙ্খিত বার্ডফ্লু?
এ বছর, বাংলাদেশে নিপাহ্ ভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারন করেছে! ইতিমধ্যেই ৮ জন মারা গেছে! লক্ষ্যনীয় নিপাহ্ ভাইরাস ছড়াচ্ছে দেশী বাদুড়। পরিব্রাজক পাখিদের দ্বারা এখনো কোন ফ্লু ছড়ায়নি, যা কিনা ব্যঙ্গমাকে স্বস্তি দিচ্ছে কিন্তু আরেকটি ফ্লু তাকে নিদারুন অস্বস্তিতে ফেলেছে………এ দেশে এসেই সে খেয়াল করছে- ধর্ষনের প্রকোপ অসাভাবিক হারেই বেড়ে গেছে! এমনকি দিল্লির মতোই ধর্ষন হয়েছে চলন্ত বাসে! অর্থ্যাৎ এ শীতে বাংলাদেশ বার্ডফ্লুতে আক্রান্ত না হলেও আক্রান্ত হয়েছে রেপফ্লুতে!!!

ব্যঙ্গমা ভাবছিলো- ভাগ্যিস পাখিরা মানুষের মতো হয় নি! পাখিরা যদি মানুষের মতো হতো, তবে মানুষের এ অমানবিক দোষে পাখিরাও দুষ্ট হতো! যখন দিল্লিতে কিংবা বাংলাদেশে চলন্ত কিংবা উড়ন্ত অবস্থায় একাকি কিংবা দলবদ্ধ নির্যাতনে ব্যঙ্গমী ধর্ষিত হতো! ধর্ষন শেষে তাকে ছুড়ে ফেলা হতো আকাশ কিংবা গাছের ডাল থেকে! ফলে মৃত্যু হতো ব্যঙ্গমীর আর সারা জীবন বিপত্নীক হয়ে একাকি কাটাতে হতো ব্যঙ্গমার!
ব্যঙ্গমা ভাবে- পাখিরা মানুষ থেকে অনেক উত্তম! পাখিরা গান গেয়ে, ভালোবেসে সঙ্গীকে আকৃষ্ট করে। মানুষ নামের অমানুষ হয়ে জোর করে না! মানবিকবোধের বিরুদ্ধাচারনে দানব হয়ে কিংবা অসহায়ত্বের সুযোগ গ্রহন করে কাউকে জীবন্ত হত্যা করে না!

হঠাৎ করেই মানুষ্যকুলের প্রতি আর হিংসা নয় বরং করুনা হয় ব্যঙ্গমার!
সভ্যতার উৎকর্ষতায় মানুষ্যকুল শুধু সুউচ্চ নীড়ই গড়তে পেরেছে! কিন্তু তাদের বোধকে প্রতিথ করছে অসভ্যতার অতল গহব্বরে…।।