বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ভাঁড় বদল হয়, ভাঁড়ামি নয়!!!

প্রত্যেক কালে, যুগে ক্ষমতাশীন সভায় ভাঁড়ের দেখা পাওয়া যায়!!! যারা তাদের চাটুকারিতা আর ভাঁড়ামি দিয়ে হাস্যরসের জন্ম দেন! নিজেরা হাসেন, অন্যদেরও হাসান। বিনিময়ে মেলে এনাম, আর রাজ্যসভা পায়  হাসির উপলক্ষ্য।
আমরা পড়েছি, সম্রাট আকবরের নবরত্ন সভার রত্ন বীরবল, যিনি তাৎক্ষনিক রসিক জবাব দিতেন। রসিক বীরবল যদি একটু গম্ভির হতেন তাহলে হয়তো তার বুদ্ধিমত্তার জন্য ইতিহাস তাকে বুদ্ধিবিশারদ হিসাবে পরিচিত করতো! তবে হাস্যরসে মেধার ছাপ রাখা বীরবল ভাঁড় হিসাবেই পরিচিত।
আমরা পড়েছি, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভার গোপাল-ভাঁড়, যিনি জীবনে অসংগতি পাগলামো, পরিমিতিবোধের অভাব, রঙ্গরসিকতায় তুলে ধরতেন। হাস্যরসের মাধ্যমে যিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতেন। কিন্তু বাহ্য হাস্যরস বুদ্ধিমান গোপালকে বুদ্ধিজীবি না করে ভাঁড় হিসাবে পরিচিত করেছে।
লক্ষ্যনীয়, এসব ভাঁড়দের কথায় হাস্যরস সৃষ্টি হতো, কিন্তু তাদের কথায় মেধার ছাপ ছিলো, পরিস্থিতির নির্মোহ মূল্যায়ন ছিলো।
আধুনিক যুগেও ক্ষমতাশীন সভায় আমরা ভাঁড়দের দেখতে পাই! কিন্তু এসব মেধাহীন ভাঁড়দের কথায় হাস্যরস যাও বা পাওয়া যায় কিন্তু সারবেত্তা খুঁজে পাওয়া যায় না!
গত চারদলীয় জোট সরকারের সময় আমরা দেখেছি, স্পাইক চুলের এক স্পাইসি বাংলিশ ভাঁড়! যার ইংলিশের ভাঁড়ামো শুনে গোপাল ভাঁড়ও হেসে খুন হতেন নিশ্চই!! সে সময়ই আমরা দেখেছিলাম, হাস্যরস বাদ দিয়ে আল্লার মালের করুন রসের ভাঁড়ামি!!!
এরপর দিনবদলের কথা বলে যখন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসলো, সবাই আশা করেছিলো, অন্তত ভাঁড়ামিতেও আমরা বদল দেখতে পাবো, হাস্যরসের পাশাপাশি খুঁজে পারো সারবেত্তা! কিন্তু হায়!!! শেয়ার বাজারে পুজিঁ হারানো, রাজপথে জীবন হারানো, দ্রব্যমূল্য সঞ্চয় হারানো, চিরদূঃখী এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে তামাশা করার জন্য ভাঁড় বদল হলেও ভাঁড়ামি বদল হয়নি!!! সম্ভবত হবেও না!!!
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, ভাঁড় বদলের পালায় এখন ভাঁড় কে? কিম্বা বর্তমান ক্ষমতাশীন সভার প্রধান ভাঁড় কে?
আপনার উত্তর যদি হয়- হাস্যজ্জল কার্টুন সৈয়দ আবুল, তাহলে বলবো দূঃখিত পাঠক, চেহারা দেখে  সবকিছু মূল্যায়ন করা ঠিক নয়! বরং উত্তরটা হবে সৈয়দ আশরাফ!! অব্যাহত ভাঁড়ামিতে যিনি হাস্যরস ও করুনরস সৃষ্টি করে যাচ্ছেন!
৩ ডিসেম্বর  যিনি ভাঁড়ামিতে গুপ্তরস এনে বলেছিলেন- ব্লগ এখন অনেকটা পর্নোগ্রাফিতে পরিণত হয়েছে! 
২১ জানুয়ারী তিনি সীমান্তে হত্যা আর নির্যাতনে চিন্তাহীন তামাশায় বলেছিলেন- সীমান্তে যা কিছু ঘটছে তা নিয়ে রাষ্ট্র চিন্তিত নয়। সব কাজ ফেলে রেখে শুধু এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলেও সরকার মনে করে না। এসব অতীতে ঘটেছে, এখনো ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে। এগুলো নিয়ে রাষ্ট্র খুব বেশি চিন্তিত নয়।
আর ২ ফেব্রুয়ারিতে তিনি অবহেলা, অদক্ষতা আর বিনা পরীক্ষায় লাইসেন্স দেবার চাটুকারিতার বললেন- সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে প্রতিবাদ জানানোর কিছু নেই!
সৈয়দ আশরাফের এ ভাঁড়ামিতে তার কোন এনাম মিলছে কিনা জানিনা! শুধু অনুভব করি, যারা স্বজন হারিয়েছে বিএসএফের গুলিতে কিম্বা ঘাতকের বেপরোয়া গাড়িতে, এসব ভাঁড়ামো তাদের হাসির উপলক্ষ্য দেয় না, দেয় হৃদয়ে রক্তক্ষরনের উপলক্ষ্য। তাইতো, সরকারদলীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, যিনি দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন তার আদরের ভাতিজাকে, তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তার মনের বেদনার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, প্রতিবাদ করে বলেছেন- আজকে সংসদে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলা হয়েছে সেটা খুবই দুঃখজনক। এই বক্তব্যের বিষয়ে আমার মনের বেদনার অনুভূতি প্রকাশ করতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়েছি। ‘সব সড়ক দুঘর্টনা নিছক দুর্ঘটনা নয়। অবহেলা, অদক্ষতা ও ইচ্ছকৃতভাবে যে ঘটনা ঘটে সেটা নিছক দুর্ঘটনা নয়। এটা মর্মন্তুদ বিষয়।’ ৩০৪ (ক) মতে যে দুর্ঘটনা এড়ানো যায় তাকে নিছক দুঘর্টনা বলা যায় না। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর দুঘর্টনা এড়ানো যায় না, ঘটে যায় তাকে দুঘর্টনা বলা যায়।
 আমি জানি, তারানা হালিমের মতো স্বজন হারানোদের বেদনা কোন ভাঁড়কে স্পর্শ করবে না! তারা অপরিমিতিবোধের রঙ্গরসিকতায় বলেই যাবে- “অ্যাকসিডেন্ট ইজ অ্যাকসিডেন্ট! বাচ্চো লোগ তালিয়া বাজাও! আল্লার মাল আল্লাই নিয়ে যাবে!





রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১২

অবসম্ভাবী সংঘর্ষের দায়টা কার???

কেনেথ টাইনান ছিলেন একজন প্রভাবশালী নভেলিস্ট এবং বিখ্যাত  ড্রামা ক্রিটিক। কিন্তু তিনি কখনও নাটক লেখেননি!!!। তার এই নাটক না লেখার বিষয়ে এক ইন্টারভিউতে তিনি বলেছিলেন,
"একজন মানুষ তার জীবনে যা কিছু লিখতে পারে, তার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হলো নাটক লেখা। "
হয়তো কঠিন বলেই কেনেথ টাইনান নাটককে এড়িয়ে গেছেন! কিন্তু তিনি বলে যাননি আমাদের জীবনটাই একটা নাটক এবং সমস্যা আর সংকটে ভরপুর এ নাটক এড়ানো সম্ভব নয়।
আমি ভাবছিলাম, যুক্তিবিদ্যার সেই জটিল সমীকরণ- গরু ঘাস খায়, মানুষ গরু খায় অর্থাৎ মানুষ ঘাস খায়!
আচ্ছা, জীবনটা যদি নাটক হয়, আর আমাদের জীবন জুড়ে  যদি রাজনীতি হয়, তবে কি রাজনীতিও একটা নাটক? রাজনীতি নাটক হলে সেটা কি বানিজ্যিক নাটক, নাকি শিল্প সমৃদ্ধ নাটক? সম্ভবত, রাজনীতি বানিজ্যিক  নাটক!  তবে টিভি নাটকের সাথে রাজনীতি  নাটকের  পার্থক্য হলো,  টিভি নাটকের বানিজ্য টাকায় আর রাজনীতি নাটকের  বানিজ্য ক্ষমতায়!  টিভি নাটকে সংঘর্ষ হয় না, হয় অভিনয়। স্ট্যানম্যানরা মার খায় না, মার খাবার অভিনয় করে। সেখানে রক্ত ঝরে না, ঝরে আলতা( লাল রং)। কিন্তু রাজনীতি নাটকে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ হয়, সাধারন মানুষ মার খায়, যে নাটকে আলতা নয় বরং রক্তই ঝরে।
আর এমন রাজনীতিক নাটকে আজ রক্ত ঝরলো চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে। চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে নিহত তিন জন কোন স্ট্যানম্যান ছিলোনা ছিলো সাধারণ মানুষ। তারা নিহত হলো আমাদের ক্ষমতা কেন্দ্রিক মহাকাব্যিক  রাজনীতির দ্বন্দ্বে। যে দ্বন্দ্বটি সাম্প্রতিক সময়ে হয়েছে প্রকট।
উদ্বেগ-উৎকন্ঠা নিয়ে আমি খেয়াল করছিলাম এ সংকটের ঘটনা প্রবাহ-

ঘটনা প্রবাহ এক. ৯ জানুয়ারী চট্টগ্রাম জনসভা থেকে খালেদা জিয়া ২৯ জানুয়ারী ঢাকা সহ অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা  শহর সদরে গন মিছিলের কর্মসূচী ঘোষনা করেন।

ঘটনা প্রবাহ দুই. ২৬ জানুয়ারী, মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বিএনপি-জামায়াত জোটের দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে দেড় মাস ব্যাপি কর্মসূচির অংশ হিসাবে ২৯ জানুয়ারী পাল্টা সমাবেশ করার ঘোষনা দেয়।

ঘটনা প্রবাহ তিন. ২৮ জানুয়ারী, প্রধান দুই দলের পরস্পর বিরোধী অবস্থানে সংঘর্ষের আশংকায় ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২৯ জানুয়ারী মিছিল সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

ঘটনা প্রবাহ চার.  ২৮ জানুয়ারী,  পুলিসের নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে বিএনপি তাদের গনমিছিল একদিন পিছিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এবং রাতে আওয়ামী লীগ তাদর সমাবেশ কর্মসূচি স্হগিত করে।

ঘটনা প্রবাহ পাচ. ২৯ জানুয়ারী, মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের স্থগিত করা কর্মসূচি ৩০ জানুয়ারি বিএনপির গনমিছিলের দিনে করার ঘোষনা দেয়। এদিন চাঁদপুর ও লক্ষিপুরে বিএনপির গনমিছিলের সাথে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ তিনজন নিহত হয়।

ঘটনা প্রবাহ ছয়.  ??????
এ প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন? কি হবে ৩০ জানুয়ারী? ডিএমপি কি আবারো নিষেধাজ্ঞা জারি করবে? বিএনপি কি নিষেধাজ্ঞা ভেঙ্গে গনমিছিল করবে? আওয়ামী লীগ কি বিদ্বেষপ্রসুত সমাবেশ করবে? পুলিশ-বিএনপি-আওয়ামীলীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে কি আবারো রক্ত ঝড়বে? লাশ পড়বে?
আমি ভাবছিলাম, জনগনের জীবন ও জীবিকার এ নিরাপত্তাহীনতার দায় ও দোষটা কার?
এটা নির্বাচন করার জন্য মূল্যায়ন করতে হবে পূর্বের পাঁচটি ঘটনা প্রবাহ.....যেহেতু নির্দিষ্ট দিনের ২০ দিন আগে বিএনপি কর্মসূচি ঘোষনা করেছিলো, তাই বিএনপির গনমিছিল ছিলো প্রত্যাশিত। কিন্তু মাত্র ৩ দিন আগে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির দিনেই আওয়ামীলীগের সমাবেশ ঘোষনা ছিলো অপ্রত্যাশিত! এবং এ অযাচিত সিদ্ধান্ত উদ্বেগপূর্ন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে! আওয়ামীলীগের এ অনাকাংক্ষিত সিদ্ধান্ত যে সংঘাতের আবহ তৈরি করে তা নিরাপত্তার স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্র তৈরি করে। ফলে ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২৯ জানুয়ারী মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বিবাদমান এ অচলাবস্থায় বিএনপি তাদের রাজনৈতিক বিচক্ষনতার পরিচয় দিয়ে গনমছিল এক দিন পিছিয়ে দেয়। তবে ২৯ তারাখেই নির্ধারিত গনমিছিল করতে গিয়ে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে বিএনপির মিছিলে বাধা দেয়ায় সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহত হয়! আমি নিশ্চিত নই, ২৯ জানুয়ারী চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে নিষেধাজ্ঞা চলছিলো কিনা! যদি নিষেধাজ্ঞা থাকে তাহলে স্থানীয় বিএনপি গনমিছিল একদিন না পিছিয়ে নির্দিষ্ট দিনে করার অতি উৎসাহ কেন দেখালো? আর বাংলাদেশ পুলাশের সদস্য কিভাবে বিএসএফের মতো এ দেশের মানুষের বকে গুলি চালিয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনা জন্ম দিলো! রাজনীতি না হয় নাটক! কিন্তু পুলিশতো আর রাজনীতিবীদ নয়। নাকি পুলিশ প্রমান করলো, তারা ক্ষমতাশীন রাজনীতি নাটকের একটি চরিত্র!
আমার মনে হয়, ন্যাক্কারজনক এ ঘটনা শুধু লজ্জাজনকই নয় এতে একটি সতর্কবার্তাও রয়েছে!
যে সতর্কতা আগামিকাল আরেকটি সংঘাতের আশংকার, আরো রক্তের এবং লাশের আশংকার!
বিএনপির পিছিয়ে দেয়া গনমিছিলের দিনেই আওয়ামীলীগ আবারো অপ্রত্যাশিতভাবে সমাবেশ ডেকেছে! তাদের এ অগনতান্ত্রিক ও অসহিষ্ণু আচরনই সংঘাত, সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে পারে, কাল আরো রক্ত ঝড়তে পারে, লাশ ও পড়তে পারে! তাই এ ক্ষেতে বিএনপির সহনশীলতার বিপরীতে আওয়ামীলীগের এ অসহিষ্ণতায় যদি যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম হয় তাহলে এর দোষটা আওয়ামীলীগের ওপরই পড়বে, দায়টা তাদেরই নিতে হবে।









শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১২

অপপ্রচারের মূল্যায়ন!


গত সপ্তাহে ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভি যখন বিএসএফ-এর অপকর্মের ভিডিওটি প্রকাশ করলো, একজন বাংলাদেশীকে উলঙ্গ করতে দেখে ভাবছিলাম, কিভাবে সীমান্তে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত উলঙ্গ করা হচ্ছে! ফেলানির রক্তের দাগ এখনো মোছেনি, জল্লাদের শানিত অস্ত্র রক্তের দাগ ও ক্ষত টাটকা রাখছে প্রতিনিয়ত! সেলিমকে যখন বর্বরতায় বিবস্ত্র করে পেট্রোল ঢেলে দেয়া হলো, যে পেট্রোলে আগুন জ্বলে উঠলো এ দেশের মানুষের মনে, ব্লগে, ফেসবুকে………জ্বালানী পেলো ভারত বিরোধী মনোভাব।
এর মধ্যেই ফেসবুকে উঠে আসলো আরো দুটি ভয়াবহ ছবি। এক ব্যাক্তির গাছের সাথে বাধা বিভৎস ছবি এবং এক নারীর মৃতদেহ বাঁশে করে ঝুলিয়ে নেবার অমানবিক ছবি, প্রচার করা হলো বিএসএফ কতৃক বাংলাদেশী নির্যাতনের ছবি হিসাবে।
কিন্তু পরক্ষনে প্রমান সহ দেখা গেলো, ছবি দুটিতে সত্যের সাথে মিথ্যা মেশানো হয়েছে। প্রথম ছবিটি বরগুনার এক ডাকাতের প্রতি গ্রামবাসীর নিষ্ঠুরতা, বিএসএফের নয়। দিত্বীয় ছবিটি মাওবাদী নারী গরিলার মৃতদেহ, বাংলাদেশীর নয়। যদিও বিএসএফকে সেভ করার জন্য প্রমান দুটি হাজির করা হয়েছে, তবে লক্ষ্যনীয় দিত্বীয় ছবিটি বিএসএফ-এর বর্বরতার প্রমান।
এখন প্রশ্ন হলো, ছবি নিয়ে মিথ্যাচার কারা কি উদ্দেশ্য প্রকাশ বা প্রচার করলো? এবং এর ফলাফল কি দাড়ালো? এর সম্ভাব্য দুটি কারন ও ফলাফল হতে পারে,
এক. ছবি দুটি দিয়ে ভারতবিরোধী মনোভাবকে উষ্কে দেবার চেষ্টা করা হতে পারে!
ফলাফল- এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে কারন প্রমান হয়েছে ছবি দুটি মিথ্যা এবং ভারত মিথ্যাচারের শিকার হচ্ছে।
দুই. সেলিম ঘটনায় ক্ষুন্ন ভারতীয় ইমেজ পূনপ্রতিষ্ঠার জন্য এটা করা হতে পারে! এবং সে উদ্দেশ্যের ধারাক্রম হতে পারে-
ক. ভারত বিরোধী মনোভাবের বেলুনকে আরো ফুলিয়ে ফেলা এবং পরক্ষনেই দুটি ছবির প্রমান পিনের খোঁচায় বেলুনটি চুপসে ফেলা।
খ. ভারত নির্যাতক নয় বরং ভারতই তথ্য সন্ত্রাসের স্বীকার হিসাবে পরিস্থিতি তুলে ধরা।
গ. একটি বিশেষ মহল বাংলাদেশে ভারত বিরোধী মিথ্যা মনোভাব তৈরি করছে, একথায় ফেলানী, সেলিম সহ সকল নির্যাতনের ঘটনাকে হালকা করে ফেলা।
ফলাফল- এ চেষ্টা সফল হয়েছে, এবং ভারত তথ্য সন্ত্রাসের স্বীকার হচ্ছে বলে প্রমান হয়েছে!
লক্ষণীয়, সম্ভাব্য দুটি ফলাফলেই পরিস্থিতির সুবিধাভোগী হয়েছে ভারত!!!
প্রিয় পাঠক, আপনারা এ বিষয়গুলো মূল্যায়ন করতে পারেন। এবং এ মূল্যায়নের পূর্বে বিবেচনায় রাখতে পারেন-
এক. ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ কোন উদ্দেশ্য প্রনোদিত ছবি নয় বরং সত্য।
দুই. সেলিমের বস্ত্রহরন কোন মহাকাব্যিক শুটিং নয় বরং বাস্তব বর্বরতা।
তিন. সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারাও সত্য।
আমি আশা করছি, এ মূল্যায়নের ফল এই লেখার মন্তব্যের ঘরে পাবো………