রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১২

চিন্তাবিহীন রাষ্ট্রই, আমাদের দুঃচিন্তার কারন!!!

ধর্ষন যখন নিয়তি হয়ে যায়, তখন ধর্ষিতার কি ভূমিকা হওয়া উচিত?
শক্তি ও সামর্থের অসহায়ত্বের বিপরীতে পাশবিক উল্লাসে যে ধর্ষিত হয়েছে ও হচ্ছে! শত চেষ্টা করেও ধর্ষন এড়ানো যায়নি এবং ভবিষৎ এ যাবেনা বলেই কি, সে ধর্ষনকে কামনা ও উপভোগ করতে হবে! যে কামনা আর উপভোগের মানষিকতা  ধর্ষিতার পরিচয় পরিবর্তন করে দিতে পারে যখন ধর্ষক, ধর্ষিতাকে বেশ্যা বলে তার অপরাধবোধ কমাতে পারে।
এ ছাড়াও ধর্ষক মহারাজ আরেকটি দায়মুক্তির সুযোগ নিতে পারে! আর তা হলো- ধর্ষিতা সন্তান সম্ভবা  হলে তার পিতৃত্বের দায়! বেশ্যার সন্তানের আবার পিতৃপরিচয় কি?
তবে বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার যুগে এ দায় আর এড়ানো সম্ভব নয়। তাই ধর্ষক এ ক্ষেত্রে আরেকটু কৌশলী হতে পারে এবং কনডম ব্যবহার করতে পারে! আশা করা যায় ধর্ষক কনডম কারিশমায় দায় এবং দোষ মুক্ত থাকতে পারবে কিন্তু ধর্ষিতা পারবে না ধর্ষন মুক্ত থাকতে, দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে!
তবে ধর্ষন নিয়ে ধর্ষিতা এখন আর চিন্তিত নয়! ধর্ষন অতিতেও ঘটেছে, এখনো ঘটছে এবং ভবিষৎ এ ঘটবে!
২১ জানুয়ারী স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, সীমান্তে যা কিছু ঘটছে তা নিয়ে রাষ্ট্র চিন্তিত নয়। সব কাজ ফেলে রেখে শুধু এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলেও সরকার মনে করে না। এসব অতীতে ঘটেছে, এখনো ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে। এগুলো নিয়ে রাষ্ট্র খুব বেশি চিন্তিত নয়। (তথ্যসুত্র)
আমি ভাবছিলাম, যে সীমান্তে শুধু মাত্র গত এক মাসে বিএসএফ নির্মমভাবে হত্যা করেছে ৪ বাংলাদেশীকে। যেখানে ঝোলে ফেলানির লাস। যে সীমান্ত পেরিয়ে আসা ফেন্সিডিলের মাদকতায় ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ! সীমান্তের এ ঘটনাগুলো কি রাষ্ট্রের চিন্তার অযোগ্য সমস্যা?
কাঁটাতারের বেড়ায় ঘিরে ফেলে, স্বাধীন দেশের সীমানার মধ্যে পাখির মতো গুলি করে মারা হয় স্বাধীন দেশের মানুষ, এ শুধু হত্যা নয়.....এ ধর্ষন......স্বাধিনতা, সার্বভৌমত্বকে প্রতিনিয়ত উপর্যপরি ধর্ষন!
তবে এ ধর্ষন নিয়ে সৈয়দ আশরাফরা চিন্তিত নয়! কারন ধর্ষন অতিতে হয়েছে, বর্তমানে হচ্ছে, ভবিষৎ এ হবে! ধর্ষন এড়ানো যাচ্ছে না বলে তারা আজ ধর্ষন উপভোগ করতে চাচ্ছে! ধর্ষকও বন্ধুত্বের কনডম পড়ে দায়বীহিন সঙ্গম করে যাচ্ছে...... তবে এ সঙ্গমে ধর্ষন অনুপস্থিত! অনুপস্থিত মানবতা, মানবিকতা, মানবাধিকার! কারন ধর্ষিতা যখন ধর্ষন নিয়ে চিন্তিত নয়, তখন সে আর ধর্ষিতা নয় বরং বেশ্যা!!!

শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১১

আব্দুর রাজ্জাক, মরে প্রমান করলেন তিনি মরেন নাই!


শুক্রবার সন্ধ্যায় "মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, বর্ষীয়ান নেতা আব্দুর রাজ্জাক আর নেই" শোক সংবাদটি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর শোকসহ কয়েকটি মিডিয়ায় প্রচার হবার পর, শোকভারাক্রান্ত মনে ফেসবুকে শেয়ার করলাম- 
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের স্মৃতির প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা। আমাদের মাথা নত হয়ে আসে, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের কৃতজ্ঞতায়....আমাদের মাথা নত হয়ে থাকবে, তাকে মূল্যায়ন না করার ব্যর্থতায়!!
কিন্তু আমার নত মাথা মাটির সাথে মিশে গেল যখন ঘন্টা খানেক পড়ে জানলাম- হাসপাতালের চিকিৎসকরা তখনও আবদুর রাজ্জাককে মৃত ঘোষণা করেননি! একজন চিকিৎসক বলেছেন, ‘হি ইজ স্টিল অ্যালাইভ।
আমি ভাবছিলাম, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবীন এ রাজনীতিবিদের জীবনের শেষ সময়ে দেশের কাছ থেকে কি চমৎকার প্রাপ্তি!!!!
হুজুকে বাঙ্গালির হুজুকপনায় আক্রান্ত মিডিয়া হয়তো অতি উৎসাহি হয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর নাম ব্যবহার করতে পারেন!!! কিম্বা আমাদের রাজনীতিবিদেরাও হয়তো কানের শোকে চিলের পেছনে দৌড়াতে পারেন!!!
প্রশ্ন হলো, আমাদের রাজনীতিবিদের বিভ্রান্ত করা কিম্বা তাদের নাম ব্যবহার করা কি এতই সহজ!! তারা এতটাই সস্তা, এতটাই দায়িক্তহীন???
তবে বর্তমান তোষামোদী রাজনীতির যুগে অচল(!)রাজনীতিবিদ আবদুর রাজ্জাক এতটা সস্তা ও দায়িক্তহীন ছিলেন না। আমৃত্যু দেশের জন্য কাজ করে যাওয়া এ যোদ্ধা, শেষ নিঃশ্বাস ও দেশের জন্য দিয়ে গেলেন! তিনি মরে প্রমান করলেন তিনি মরেন নাই! তিনি মরে এ দেশের হুজুকে মিডিয়া ও রাজনীতিবিদদের লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়ে গেলেন, দিয়ে গেলেন দায়িক্তশীল হবার শিক্ষা।

বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১১

আমার নাম সমগ্র!!!




আমার পরিচিতজনেরা, প্রায়শই আমার নাম নিয়ে বিভ্রান্তিতে ভোগেন!!!
আমার ডাক নাম, ফেসবুক আইডি, সার্টিফিকেট নাম আর ব্যবহৃত নামের নানা মোহনায় বিভ্রান্ত ও বিরক্ত হওয়াই স্বাভাবিক!
জানিয়ে রাখি, পারিবারিক সুত্রে আমার নাম মোঃ আসাদুজজামান সুমন।
নিজেকে অনন্য হিসাবে মেলানোর অংশ হিসাবে ২০০৫ সালে আমি নাম নিয়ে প্রথম ব্যান্ডিং শুরু করি। আমার নাম থেকে বাদ পড়ে যায় সুমন এবং মোঃ কে কখনো মোহাম্মাদ কিম্বা মুহাম্মাদ লিখে নাম হয় মোহাম্মাদ আসাদুজজামান কখনো মুহাম্মাদ আসাদুজজামান।
২০০৬ সালে ধর্মীয় অংশ বাদ দিয়ে, আসাদুজজামান লেখা শুরু করি।
নামের আগের ও পেছনের অংশ বাদ দিয়েও আমি সন্তুষ্ট হতে পারছিলাম না তাই 69 ব্যান্ডিং বা ওলট-পালট করে "জামান আসাদ" লিখতে থাকি।
তবে আমি চাচ্ছিলাম, নামের এমন ব্যান্ডিং যা হবে অনন্য, অর্থবহ এবং অনুপ্রেরনাদায়ক।
আমার সামনে ছিলো সফল এবং বিখ্যাত ব্যাক্তিত্বরা,  কবি শামসুর রাহমান, লেখক শফিক রেহমান, অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, সুরকার এ আর রহমান, যারা প্রতেকেই তাদের নাম পরিবর্তন করেছিলেন এবং সে পরিবর্তনের ধারা ছিলো মাত্র একটি অক্ষর এদিক ওদিক করে!!!
অনেকেই হয়তো এ আর রহমানের ক্ষেত্রে দ্বিমত প্রসন করতে পারেন! তারা বলতে পারেন, এ আর রহমান আল্লা রাখা রহমানের সংক্ষিপ্ত রুপ, পরিবর্তিত রুপ নয়। কিন্তু তারা হয়তো জানেন না, এ আর রহমান ধর্মান্তরিত হবার পর নাম রাখেন আব্দুর রহমান। তাই তার নামের সংক্ষিপ্ত রুপ হওয়া উচিত ছিলো এ রহমান। কিন্তু তিনি লিখতে থাকেন এ আর রহমান। পরবর্তিতে বিখ্যাত তবলাবাদক ওস্তাদ আল্লা রাখা'র নামানুশারে তিনি পুনরায় নাম পরিবর্তন করেন!
তবে নামের একটি অক্ষর এদিক ওদিক করে ব্যান্ডিং করার ধারনাটি আমি পাই গ্রিক মিথ থেকে।
প্রেমের প্রতিক ROSE(রোজ), আর প্রেমের দেবতা??? ROSE এর শেষের  E সামনে এনে EROS(এরোস)।
মহান শিল্পী লিউনার্দো দ্যা ভিঞ্চি এমন  ধারনা থেকেই  সম্ভবত মোনালিসার নামকরন করেছিলেন। ভিঞ্চি নারী পুরুষের সমতায় বিশ্বাস করতেন, প্রাচীন মিশরীয় যৌনতার দেবতা আমন  এবং দেবী লিসা কে পাশাপাশি রেখে AMONLISA তে  AMON এর A কে মাঝে বসিয়ে  MONALISA করেছেন।
আমার নামের ব্যান্ডিং করার সময় খেয়াল করি ASADUZZAMAN লিখতে চারটি A প্রয়োজন হয়। কার্ড খেলা সম্পর্কে যাদের ধারনা আছে তারা জানেন, সবচেয়ে বড় কার্ড টেক্কা বা A। কিন্তু চার টেক্কা  মূল্যহীন। অপরদিকে থ্রি কার্ড খেলায় সবচেয়ে আরধ্য টেক্কার ট্রয় বা তিনটি A, যার ওপর পৃথিবী বাজি রাখা যায়। তাই আমি আমার নামে মূল্যহীন চারটি A থেকে একটি A কমিয়ে প্রেমের দেবতা এরসের অদ্যাক্ষর E দিয়ে ২০০৭ সালে নামের চুরান্ত ব্যান্ডিং ASADUZZEMAN বা আসাদুজজেমান করি। যেখানে রয়েছে তিনটি A বা টেক্কার ট্রয়, যেন আসাদুজজেমানের ওপর পৃথিবী বাজি রাখা যায়। এ নামেই আমি পত্রপত্রিকা ও বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি শুরু করি। ফলে আসাদুজজেমান নামটি সামাজিক ভিত্তি পায়। 
আমার নামের চুরান্ত ব্যান্ডিং এর পর প্রতি বছর আমি একটি করে নিক বেছে নিতে থাকি! যে নিক কোথাও ব্যবহৃত হয় না তবে আমাকে অনুপ্রেরনা যোগায়!
২০০৮ সালে আমার নিক ছিলো SUMAN। SUMON এ আমি O'র জায়গায় A দিয়ে MAN লিখি কারন আমি বিশ্বাস করি সবার ওপরে মানুষ সত্য।
২০০৯ সালে, আমার তারুন্য বোঝাতে থিম ব্যবহার করি- 
মেয়েদের জান
ছেলেদের ভাইজান
একমাত্র ইনসান
আসাদুজজেমান।
২০১০ সালে আমি FACEBOOK ব্যবহার শুরু করি। এবং আমার FACEBOOK ID ব্যান্ডিং করি ZEMAN ASAD।  নামের দুটি অদ্যাক্ষর Z এবং A। A তে মিশরীয় দেবতা আমন এবং Z তে শনির চাঁদ বা দুই মুখি দানব জ্যানাস!!! আসলে সবকিছুতেই দ্বিমুখিসত্তা কাজ করে। ভালো-মন্দ, দিন-রাত, আলো অন্ধকার, দেবতা ও দানব। আমার মধ্যে ভালো ও মন্দের রুপক অর্থে নামের অদ্যাক্ষরে রয়েছে দেবতা ও দানব, আমন ও জ্যানাস! লক্ষ্যনীয়, আমি দানব জ্যানাসের Z বা জেমানকে আগে এবং দেবতা আমনের A বা আসাদকে পরে স্হান দিয়েছি!!! কারন ব্যাক্তিত্বর দ্বিমুখী দন্দে শেষে টিকবে দেবতা। মন্দের বিরুদ্ধে ভালোর জয় তো চিরকালীন।
২০১১ সালে আমার নিক ছিলো ZEMANIA (ZEMAN+MANIA)! আমার উন্মাদনাময় জীবনের প্রতিচ্ছবি  ZEMANIA।

২০১২ সালে আমার নিক SHUMAN। বর্তমানে আমরা বাস করছি ব্যাক্তিকেন্দ্রিক স্বার্থপর  দুঃস্বপ্নের যুগে.....মাঝে মাঝেই ভাবি, ঘুম ভাঙ্গলেই হয়তো ফিরে পাবো মানবিক এক পৃথিবী.....কিন্তু ঘুম ভাঙ্গেনা!!! হয়তো এ ঘুম ভাঙ্গার মতো মানবিক হতে পারিনি.... তাই ২০১২ হতে পারে মানবতাবোধ জাগ্রত করার বছর। লক্ষ্যনীয়, SHUMAN এ অদ্যাক্ষর S আলাদা করলেই এ  বোধ ফুটে ওঠে...S HUMAN।