রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১১

পর্নোগ্রাফি নয়, ব্লগ হয় সুলিখিত নয়তো কুলিখিত!


অশ্লীলতা শব্দটির কোন সঠিক ও গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষন কেউ করেছেন কিনা আমার জানা নেই। বাংলাদেশের এক চিত্রপরিচালক "অশ্লীলতার কোন সংগা নেই" জাতীয় কথা বলে বেশ আলোড়ন তুলেছিলেন! তবে অশ্লীলতা সম্পর্কে সুন্দর ও শুদ্ধতম মন্তব্য করেছিলেন, অস্কার ওয়াইল্ড তার পিকচার অফ ডৌরিয়্যান গ্রে বইটিতে-
There was actually nothing as a moral or immoral book, Books were either well written or badly written"
অস্কার  ওয়াইল্ড যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়তো তিনি তার মন্তব্য অন্যভাবে লিখতেন। কারন আজ ভিন্নমত অশ্লীলতা, আজ অন্যায়ের সমালোচনা অশ্লীলতা, অশ্লীলতা শুদ্ধচিন্তা!
৩ ডিসেম্বর, এলজিআরডি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন- ব্লগ এখন অনেকটা পর্নোগ্রাফিতে পরিণত হয়েছে! তথ্যসুত্র
 আমি জানিনা, সৈয়দ ইসলাম বিডিব্লগ, প্রথমআলো ব্লগ নিয়মিত পড়েন কিনা? যদি পড়ে থাকেন এবং ব্লগ যদি পর্নোগ্রাফি হয়! তাহলে আশার কথা, অন্তত পর্নোগ্রাফির টানে হলেও আমাদের রাজনীতিবিদেরা ব্লগ(আসলে রসময়গুপ্ত) পড়ছেন!
ডি.এইচ.লরেন্স যথার্থই বলেছিলেন-
What is pornography to one man is the laughter or genius to another.
অনেকের কাছে হাস্যকর, পর্নোগ্রাফি মনে হলেও আমাদের গনতন্ত্রের দূর্বল ও অথর্ব বিরোধীদল যখন ঠুনকো অযুহাতে গঠনমূলক সমালোচনা থেকে দূরে সড়ে যাচ্ছে, তখন গনমাধ্যম বিশেষকরে ব্লগগুলো যখন গঠনমূলক সমালোচনা করছে তা কি গনতন্ত্রকে সুদৃঢ় ভিত দিতে সহায়ক নয়???
তবে হ্যা, সৈয়দ ইসলামের যে কথা গুলোর যৌক্তিক  আবেদন রয়েছে-
(১)  ব্লগ গুলোতে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অশালীন ও অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়, কিন্তু অশালিন মন্তব্য গুলো মডারেশন করা হয় না।
(২) প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক,বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সহ অনককে নিয়ে ব্লগে অশালীন ও কুৎসিত মন্তব্য করা হয়। যার সঙ্গে বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই।
(৩) নিজেদের ক্রেডিবিলিটি ধরে রাখতে ব্লগগুলো মনিটর করা।
এ মন্তব্যের সাথে আমিও একমত তবে
(৪) সবাইকে ব্লগ মডারেট করতে হবে।
এ মন্তব্য অনেক বেশী কর্তৃত্ব পরায়ন বলে মনে হয়েছে।
 তাকে বুঝতে হবে, জনমত তাদের অনেক কাজের মডারেশন দাবি করে, তারা ক্ষমতার দম্ভে নিজেদের অযোক্তিক কাজ গুলো মজারেশন করবেন না কিন্তু জনগনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মডারেট করতে বলবেন তা কি করে যোক্তিক আবেদন সৃষ্টি করতে পারে??? বিনা মডারেশনে সে ব্লগ ক্ষমতাশীনের কাছে পর্নোগ্রাফি মনে হলেও ক্ষুব্ধ জনমনে তা বাস্তব মনে হতে পারে! তবে অস্কার ওয়াইল্ডের ভাষায় বলা যায়- "ব্লগ কখনো পর্নোগ্রাফি হয়না ব্লগ হয় সুলিখিত নয় তো কুলিখিত"।

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১১

ঢাকা, দুই ভাগেতে হবেনা যাহা, সাত ভাগেতে সফল!


যখন পাঁচ মিনিটে রাজধানী  ঢাকাকে দুই ভাগ করা হলো...
আমি ভাবছিলাম, এ যুগের শিশুদের গনিত শিখতে আর ধারাপাতের দরকার নেই!!! শিশুরা গনিত শিখবে রাজনীতি থেকে!
মাইনাস-টু ফর্মুলা থেকে বিয়োগ।
সেই ফর্মূলা ব্যর্থ করে দুই নেত্রীর প্লাস হওয়া থেকে যোগ।
ঢাকা বিভক্তি থেকে ভাগ।
আর জনভোগান্তির ক্রমাগত বৃদ্ধি থেকে গুন।
যদিও সরকারের কর্তা ব্যাক্তিরা, ঢাকা বিভক্তি থেকে ভাগ এবং গুন এক সাথে শেখাতে চাচ্ছেন! বিভক্ত ঢাকায় নাকি সেবার মান কয়েক গুন বৃদ্ধি পাবে।
আমি ভাবছিলাম, রুপকথার সেই আটকুড়ে রাজার গল্প। যে রাজার আছে হাতিশালায় হাতি, ঘোড়াশালায় ঘোড়া, টাকশালে টাকা। কিন্তু রাজার মনে শান্তি নেই! রাজ্যে সুখ নেই!  থাকবেই বা কি করে, রাজা যে আটকুড়ে। লোকে বলাবলি করে, রাজাও সন্তানের আশায় একটার পর একটা বিয়ে করে যান।
গল্গটা যদি আধুনিক যুগের হতো তাহলে হয়তো জানা যেত রাজা নপুংসক কিনা? রুপকথা বলেই হয়তো সমস্যা জানার সুযোগ নেই। তাই নপুংসক রাজার আটকুড়েমির মাশুল দিতে হয় একটার পর একটা রানীর। জনগনও অন্তহীন প্রত্যাশায় থাকে রাজার সন্তান হবে, আটকুড়েমি ঘুচবে, রাজ্যে শান্তি আসবে...
 আমি ভাবছিলাম, বর্তমান সরকারের অবস্থাও সেই আটকুড়ে রাজার রুপকথার মতো। দেশে শান্তি নেই... শেয়ার বাজারে অব্যাহত সুচক প্রপাত, আইন শৃংখলার অবনতি, রাজধানীতে বিভিন্ন নাগরিক ভোগান্তি।
সরকার নাগরিক সুবিধা বাড়াতে সেই রাজার রানী বাড়ানোর মতো, উত্তর-দক্ষিন নামে ঢাকা বাড়াচ্ছেন!
কিন্তু তারা জানেন না তাদের সমস্যাটা কোথায়? নপুংসকের বৌ বাড়িয়ে লাভ কি? সমস্যা না জেনে, না বুঝে জনমতের তোয়াক্কা না করে ঢাকা ভাগ করেইবা কি লাভ?
তবে আমি আশাবাদি, রুপকথার সেই রাজার কিন্তু অবশেষে সন্তান হয়, আটকুড়েমি ঘোচে! রাজার স্বপ্নে দেখা দেয় এক দরবেশ। সে গান গেয় জানায়-"ছয় রানীতে দেয়নি যাহা, সাত রানীতে সফল"। রাজা দরবেশের কথায় সপ্তম বিয়ে করেন এবং সফল হন।
বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও এমন কোন দরবেশ দেখা দিতে পারে। আর সেই দরবেশ হতে পারে শেয়ার বাজারের আলোচিত দরবেশ বাবা।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-"টাকা থাকলে ঢাকাকে নাকি চার ভাগ করতেন"!
টাকা সমস্যার উত্তম সমাধান হতে পারে শেয়ার বাজারে কোটি কোটি টাকা লুটে নেয়া সেই দরবেশ বাবা!
তিনি হয়তো এখন গানের সুরে বলতে পারেন-"ঢাকা, দুই ভাগেতে হবেনা যাহা সাত ভাগেতে সফল"!
আমি আশা করছি, সফলতার জন্য ঢাকাকে দুই ভাগ নয় বরং সাত ভাগ করা হবে...
আর এতেও যদি সফলতা না আসে, তাহলে রুপকথার জনগনের মতো আধুনিক যুগের জনগনকে অনন্ত প্রত্যাশা করতে হবে না....অপেক্ষা শুধু দুই বছর....অপেক্ষা পরবর্তি নির্বাচনের।

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১১

মুহূর্তের মন্তব্য


জুয়ার আসরের ছবি তুলে ফেরার পথে জুয়াড়িদের হামলার শিকার হয়েছেন  ‘সময় অসময়’ সম্পাদক  কেএম বেলাল হোসেন স্বপন। ২৯ নভেম্বর বিকালে কাছিকাটার এক জুয়ার আসরের ছবি তুলে ফেরার সময় জুয়ারিরা দলবদ্ধভাবে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
আমি ভাবছিলাম, এ হামলার আমি নিন্দা জানাবো না। সাংবাদিকতার ঝূকিপূর্ণ পেশার এমন ঘটনা মোটেই অস্বাভাবিক নয় । ঝুকি গ্রহনের মানষিকতার প্রতিক্রিয়ায় নিন্দা জানালে তা হবে সাংবাদিকতার নীতি ও আদর্শের প্রতি অসম্মান জানানোর শামিল।
বরং আমি নিন্দা জানাতে চাই, যারা জুয়ার আসর বসাচ্ছে এবং তাদের যারা জুয়ারিদের মদদ দিচ্ছে।  আমি নিন্দা জানাচ্ছি, প্রশাসনের ভূমিকায়, যারা জুয়ার মতো বিষয়ে চক্ষু মুদিয়া থাকে!
এখন  প্রশ্ন হলো, সাংবাদিকের ওপর হামলা কি নিন্দাযোগ্য নয় । অবশ্যই এ ঘটনা ন্যাক্কারজনক । তবে নিন্দা এ ক্ষেত্রে সেকেন্ড প্রায়রিটি। আমি ভাবছিলাম, এর ইতিবাচক দিক সম্পর্কে।
লক্ষ্যনীয়, জুয়ারিরা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা করেছে, ক্যামেরা ছিনিয়ে নিতে চেয়েছে এবং সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেছে। কেন???
কারন তারা ভীত হয়েছে। তাদের ভয় এ ঘটনা প্রকাশ পেলে জুয়া বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থ্যাৎ পত্রিকায় রিপোর্ট করে জুয়ার মতো সমস্যা বন্ধ করা যায়। এ ম্যাসেজ নিশ্চই সাংবাদিকদের এমন রিপোর্ট করতে আরো অনুপ্রানিত করবে।
দ্বিতীয়ত, বেলাল হোসেন স্বপন ছবি তুলে কিম্বা রিপোর্টের বিনিময়ে টাকা দাবি করেননি(এমন দাবি জুয়ারিরাও করেনি)। অর্থ্যাৎ সাংবাদিকেরা টাকার কাছে বিক্রি না হয়ে আদর্শের জন্য কাজ করে। এ ঘটনা সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার ইমেজ আরো উচুতে নিয়ে যাবে।
আমি আশা করছি, ন্যাক্কারজনক ঘটনার এ ইতিবাচক দিক সাংবাদিক কেএম বেলাল হোসেন স্বপনকে করবে শানিত এবং অন্যদের করবে অনুপ্রানিত।